Mountain View

কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয়েছে পাপনকে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৭, ২০১৭ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের শেষ দিন ছিল আজ (১৭ অক্টোবর)। এদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের সাথে বিদায়ী সভা শেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে বিগত চার বছরের সফলতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন বিদায়ি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

পাপন স্মৃতিচারণ করেছেন দায়িত্ব নিয়েই প্রথম চ্যালেঞ্জের কথা। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন যখন দায়িত্ব নেন তার শুরুটা ছিল দারুণ কঠিন। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছিল প্রধাণ লক্ষ্য। আর দলের পারফরমেন্স উপরের দিকে নিতে জাতীয় দলে টিম ওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে পাপন জানালেন, ‘মূল ব্যাপার ছিল দলীয় শৃঙ্খলা। আমার কাছে মনে হয়েছে আমাদের দেশে অনেক ট্যালেন্ট প্লেয়ার আছে। এই ট্যালেন্টগুলোকে ঠিকমতো খেলাতে হবে। টিম ওয়ার্কের অভাব ছিল। আমি আসার আগে সবাই ইন্ডিভিজুয়ালি পারফর্ম করতো। আশরাফুল থেকে শুরু করে সবাই ভালো খেলতো। ওরা পারফর্ম করলে জিততাম, না হলে জিততাম না। কিন্তু টিম ওয়ার্কের অভাব ছিল। তাই এই টিম ওয়ার্ককে ম্যানেজ করে যতটুকু পারা যায়, মানে একটা সিস্টেমের মধ্যে আনা যায় সেটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।’

দেশের ভেতরের পাশাপাশি দেশের বাইরেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এগুলো ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলা করেছিলেন পাপন। আরও বেশ কিছু ইস্যু ছিল যেগুলো মোকাবেলা করা অনেক কঠিন ছিল তার জন্য।

বিদায়ি সভাপতির ভাষ্যমতে, ‘আমি যখন আসি তখন বিশ্বকাপ বাংলাদেশে হবে কী না এটা একটা মেজর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখন যে পরিস্থিতি ছিল তাতে আইসিসি’র সাথে আলাপ আলোচনাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি যখন আসি তখন আইসিসি থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার আলাপ আলোচনা চলছিলো। কেননা সেই সময় এক বছর বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুবই খারাপ যাচ্ছিলো। আবার ফুল মেম্বারশীপ থেকে নেমে যাওয়ার ইস্যুও ছিল। এইগুলোই মূলত কঠিন ছিলো।’

পাপন আরও যোগ করেন, ‘আইসিসিতে ওদের ম্যানেজ করা এবং আইসিসি’র ইভেন্টসগুলো বাংলাদেশে আনা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কেননা তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে কিছু দেশ আসতে চাচ্ছিলো না। অস্ট্রেলিয়া প্রথম দফায় আসলোই না। তারপরে ইংল্যান্ডকে আনাও ছিল চ্যালেঞ্জিং। দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, যেমন ভারতে সিরিজ খেলা।’

উল্লেখ্য, আজকের এই সংবাদ সম্মেলনই বিসিবি সভাপতি হিসেবে পাপনের শেষ দিন। ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। সেখানে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাজমুল হাসান পাপন। এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন সভাপতি হওয়ার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে তার।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View