Mountain View

গ্রহণযোগ্য জাতীয় দল গঠনে যা যা করণীয়

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৭, ২০১৭ at ১০:১১ অপরাহ্ণ

ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশে উম্মাদনার শেষ নেই, কাজের ফাঁকে একটু সময় হলেই ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকতে পছন্দ করে বাংলাদেশের মানুষ। প্রিয় দলের ১১ জনের একাদশ কিংবা ১৪/১৫ জনের দল কেমন হবে, কে সুযোগ পেলো, কে পেলো না কিংবা যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও কে বাদ পড়লো, এসব নিয়েই আলোচনা চলে সব সময়। বর্তমানে যা মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রিয় ক্রিকেটার কিংবা যোগ্য ক্রিকেটার দলে না থাকায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আক্রোশে পড়ছে নির্বাচক প্যানেল সহ সংশ্লিষ্ট সকলে।

মূল সমস্যা-

দিনে দিনে ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়ছে, নতুন নতুন ক্রিকেটার আসছে ঘরোয়া ক্রিকেটে, প্রতিদ্বন্ধিতা বাড়ছে আগের তুলনায় অনেক। ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া, নতুন ক্রিকেটার উঠে আসার পাশাপাশি ক্রিকেটে টিটোয়েন্টি নামক একটি নতুন সংস্করণের আবির্ভাব হয়। সবমিলিয়ে ক্রিকেটের তিনটি আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে প্রতিনিধিত্ব করে ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ। অন্যান্য দেশে ফরম্যাটভিত্তিক দল গঠন হলেও বাংলাদেশে তেমনটা নেই, যারা টি২০ খেলছে, তারাই টেস্ট ও ওয়ানডে খেলছে, যারা টেস্ট খেলছে, তারাই ওয়ানডে/টি২০ খেলছে, ফলে ১৪/১৫জনের দলের বাহিরেও বহু যোগ্য ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছে না। পাশাপাশি বোর্ডকর্তা, নির্বাচক/কোচদের পছন্দ অপছন্দের কারনেও অনেক সময় যোগ্যরা দল পাচ্ছে না, কিংবা এক ফরম্যাটের ভালো ক্রিকেটার তিন ফরম্যাটেই খেলছে সমান তালে।

দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়ছে দিনে দিনে, পাশাপাশি নতুন ক্রিকেটার উঠে আসছে অনেক। বাড়ছে পারফরম্যারদের সংখ্যা, কিন্তু কিন্তু ফরম্যাটে স্পেশালিষ্ট জাতীয় দল গঠন না করার কারনে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক ক্রিকেটার। জাতীয় দলের বাহিরে ১০/১৫ জন ক্রিকেটার থাকে, যারা যোগ্য, সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করবে, কিন্তু তারা মাধ্যম পাচ্ছেন না নিজেদের আবারো প্রমাণ করার।

সমস্যা সমাধাণে করণীয়-

তরুন ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য অ-১৯ দল আছে, তারপর আছে এ দল, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আছে তিনটি ফরম্যাট অর্থাৎ ক্রিকেটারদের জন্য ৫টি মাধ্যম আছে সুযোগ পাওয়ার। কিন্তু বর্তমানে শুধু অ-১৯ দল ও একটি মাত্র জাতীয় দল, তিনফরম্যাটে প্রতিনিধিত্ব করার কারনে সমস্যা বাড়ছে দিন দিন। এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য প্রথমেই বিসিবিকে ফরম্যাট ভিন্নতায় দল গঠন করতে হবে। (ফরম্যাট ভিন্নতায় দল গঠন করে ক্রিকেটের প্রায় দেশগুলো এবং বেশ সাফল্যও পাচ্ছে) ছোটদের অ-১৯, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের ও অ-১৯ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরম্যারদের সমন্বয়ে এ দল গঠন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাটে ভিন্ন দল গঠন করতে হবে। যদি এমনটা করা সম্ভব হয়, তাহলে কোন যোগ্য ক্রিকেটারই অবমূল্যায়ণ হবে না, বঞ্চিত হবে না কেউ তার অধিকার থেকে। সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে সব ক্রিকেটার। সর্বোপরি ফরম্যাট ভিন্নতায় যোগ্যরা সুযোগ পেলে শক্তিশালী হবে প্রতিটি ফরম্যাটের দল, যার সুফল পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র, পাচ্ছেও বড় বড় দলগুলো।

বর্তমান সময়ের বিবেচনায় তিন ফরম্যাটের স্পেশালিষ্ট দলগুলো যেমন হতে পারে। তিন ফরম্যাটেই ১৪জন করে ক্রিকেটার বাছাই করা হলো-

টেস্ট দল-

তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফিজ, লিটন দাশ, মোমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তুষার ইমরান/নাঈম ইসলাম (সুযোগ পেতে পারে) মোসাদ্দেক সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশিষ রায়, রুবেল হোসেইন, শাহাদাত হোসাইন, রবিউল ইসলাম।

ওয়ানডে দল-

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেইন, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মোর্তুজা, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেইন ও তাসকিন আহমেদ।

টি২০ দল-

তামিম ইকবাল, মেহেদী হাসান মারুফ, জিয়াউর রহমান, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেইন, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেইন। (টি২০ দল মূলত ১৩/১৪জনেরই হয়)

উল্লেখিত তিনটি ফরম্যাটে যারা সুযোগ পেয়েছে, এটা রদবদলও হতে পারে, শুধুমাত্র তিন ফরম্যাটের ভিন্নতা বুঝানোর জন্য আমার পছন্দ মতো সাজিয়েছি মাত্র। উল্লেখিত টি২০ দল থেকে কেউ কেউ ওয়ানডেতে যেতে পারে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে এবং ওয়ানডে দল থেকে কেউ কেউ টেস্ট দলে যেতে পারে অনেক ভালো খেলে।

তিন ফরম্যাটের উল্লেখিত ক্রিকেটারদের বাহিরেও যদি কোন যোগ্য ক্রিকেটার বাদ পড়ে থাকে, তাদেরকে নিয়ে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে, অ-১৯ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে নিয়মিত এ দল গঠন করতে হবে, এ দল থেকে কেউ কেউ জাতীয় দলে আসবে এবং জাতীয় দলে খারাপ খেলা কেউ এ দলে আসবে এবং অ-১৯ দল থেকে ভালো ক্রিকেটাররাও এ দলে আসবে, তারপর জাতীয় দল।

উল্লেখিতরূপে তিনফরম্যাটে ভিন্ন ও শক্তিশালী দল গঠনের ফলে জাতীয় দলের বাহিরে থাকা নাফিজ, বিজয়, তুষার ইমরান, জিয়াউর রহমান, মেহেদী হাসান মারুফ, আল আমিন হোসাইন, নাঈম ইসলাম, নুরুল হাসান, শাহাদাত হোসাইন ও মোসাদ্দেক সৈকতরা কিংবা অন্য যোগ্য ক্রিকেটার জাতীয় দলে যোগ্যতার পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে। টিকে থাকা নির্ভর করবে ফর্মের উপর।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বর্তমানে যে সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করেছে, তার থেকে উত্তোরনের জন্য উল্লেখিত ধারণাটাও ভালো একটা উপায়, পাশাপাশি কোচ/নির্বাচক/বোর্ডের আন্তরিক হওয়ারও কোন বিকল্প নেই, এটাই প্রথম প্রযোজন।

জুবায়ের আহমেদ

ক্রীড়া লেখক

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View