Mountain View

২০১৫ এর পুনরাবৃত্তি ঘটানোর প্রত্যাশায় প্রোটিয়াদের মুখোমুখি টাইগাররা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৭, ২০১৭ at ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেশের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সেই পরাজয়ের গ্লানি হয়তো আজও ভুলতে পারেনি প্রোটিয়ারা। আর সেই কারণেই হয়তো নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশকে পেয়ে পুরনো ঝাল মেটাচ্ছে তারা।

চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখতে সক্ষম হয়নি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দুটিতেই বড় ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে তাদের। এরপর প্রথম ওয়ানডেতেও  প্রোটিয়াদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তাদের।

বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের ইনিংসটিও ১০ উইকেট হাতে রেখে টপকে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর রীতিমত ছড়ি ঘুরিয়েছেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। অবশ্য টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কম চেষ্টা করেননি প্রতিপক্ষের উইকেট ফেলার জন্য।

প্রথম ওয়ানডেতে একে একে সাতজন বোলার ব্যবহার করেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু বিধিবাম, এত প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত পর্যবসিত হয়েছে ব্যর্থতায়। বলা যায় বাংলাদশি বোলারদের নির্বিষ বোলিংয়ের উপর্যুপরি সুবিধাই নিয়েছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানেরা।

এরূপ হতাশাজনক বোলিংয়ের পর স্বভাবতই অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন টাইগার বোলাররা। অবশ্য এত কিছুর পরও হতাশ হতে নারাজ নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি। কিম্বার্লিতে শোচনীয় পরাজয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাশরাফি জানিয়েছিলেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন তিনি। আর সেই লক্ষ্যেই আগামীকাল পার্লের বোল্যান্ড পার্কে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টায় প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হচ্ছে টাইগাররা।

তবে টাইগার দলপতি যতই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করুন না কেন কাজটি যে কতটা কঠিন  সেটি হয়তো তিনি নিজেও উপলব্ধি করতে পারছেন ভালোভাবে। কারণ দ্বিতীয় ওয়ানডেটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পার্লের বোল্যান্ড পার্কে যেখানে বরাবরই সুবিধা পেয়ে থাকেন ব্যাটসম্যানরা।

সুতরাং ফর্মের তুঙ্গে থাকা প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানেরা এই উইকেটে যে ঝড় তুলতে মুখিয়ে থাকবেন তা বলাই বাহুল্য। আর তাদের আটকাতে তাসকিন-রুবেল-মাশরাফিদের বোলিং করতে হবে সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে। এখন পর্যন্ত হতাশাজনক পারফর্মেন্স উপহার দেয়া টাইগার বোলাররা সেই লক্ষ্যে কতটা সফল হবে সেটাই বড় প্রশ্ন।

দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ বিশ্লেষণ-

ঊরুর পেশিতে ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। এরপর ফিজিওর পরামর্শে কিম্বার্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতেও খেলেননি তিনি।

আর তামিমের পরিবর্তে সেই ম্যাচে ওপেন করেছিলেন ইমরুল কায়েস এবং উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। তামিমের অনুপস্থিতিতে অবশ্য খুব একটা খারাপ খেলেননি এই দুই ব্যাটসম্যান। উদ্বোধনি জুটিতে তারা ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। যদিও তামিম থাকলে আরো ভালো সূচনা পেতে পারতো বাংলাদেশ তা বলাই বাহুল্য।

তবে আশার কথা হচ্ছে ইতিমধ্যে অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠেছেন তামিম। জানা গেছে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলার জন্য প্রস্তুতও তিনি। আগামীকালের ম্যাচে তাই তামিমের খেলার জোর সম্ভাবনা আছে।

সেক্ষেত্রে অবশ্য সাইড লাইনে বসতে হতে পারে ইমরুল কায়েসকে। আর তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে লিটন কুমার দাসকে। তবে দীর্ঘদিন থেকে ব্যর্থতার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকা সৌম্য সরকার যে দ্বিতীয় ম্যাচেও সুযোগ পাচ্ছেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত।

এদিকে তামিমকে একাদশে রাখা হলে পরিবর্তন আসতে পারে ব্যাটিং অর্ডারেও আগের ম্যাচে তামিম না থাকায় বড় ভিত গড়ার লক্ষ্যে ওয়ান ডাউনে অর্থাৎ তিন নম্বরে নামানো হয়েছিলো টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে।

কিন্তু পার্লে তামিম ফিরলে চিরাচরিত ব্যাটিং অর্ডারেই খেলবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে তিন নম্বরে বরাবরের মতোই ব্যাটিংয়ে নামতে দেখা যেতে পারে হার্ডহিটার সাব্বির রহমানকে।

এরপর যথাক্রমে ব্যাটিংয়ে নামবেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম এবং মিস্টার ফিনিশার খ্যাত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। অপরদিকে সাকিব খেলবেন তাঁর আগের পজিশন পাঁচ নম্বরে।

অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে সাকিবকে তিন নম্বরেও খেলাতে পারে। তেমনটি হলে আগের ম্যাচের মতো পার্লেও সাব্বির খেলবেন  ছয় নম্বর পজিশনে।

তবে টিম ম্যনেজমেন্ট চাইলে তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে খেলাতে পারে অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। এছাড়া একাদশের আর তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকলেও তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উইনিং কম্বিনেশন ঠিক রাখার জন্য আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই পার্লে খেলতে নামতে পারে তারা।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View