Mountain View

আমার পরবর্তী সংগীত পরিচালক বাপ্পী লাহিড়ী

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২০, ২০১৭ at ১২:৩১ অপরাহ্ণ

ঈদে প্রচারিত আপনার একক গানের অনুষ্ঠান ‘স্মৃতির আলপনা আঁকি’ বেশ আলোচনায় এসেছে, আপনার অনুভূতি কেমন? অবশ্যই খুব ভালো লাগছে, যখন অনুষ্ঠানটি প্রচার হয় তখন বিদেশে ছিলাম, অনুষ্ঠানটি দেখার পর সেখানকার প্রবাসী সাধারণ মানুষ থেকে এলিট পার্সনরা পর্যন্ত বলেছেন, আপনার অনুষ্ঠান খুব ভালো লেগেছে। তারা আমার গানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দেশেও প্রচুর সাড়া পেয়েছি, কেউ বলেনি আপনার গান খারাপ হয়েছে। এতে গানের প্রতি আমার উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে কখন আসছেন?
শিগগিরই আসছি। আমার এবারের গানের সংগীত পরিচালনা করবেন ভারতের বিখ্যাত সংগীতকার বাপ্পী লাহিড়ী ও অরিজিৎ সিং। তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ হয়েছে।

আপনার গান নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা দুটোই হয়েছে, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
প্রশংসাটাই বেশি হয়েছে। যারা সমালোচনা করেছে একটি বিশেষ মহলের উসকানিতে তারা এটি করেছে। তারা কখনই আমার ভালো চায় না। তাদের ঈর্ষা হলো মাহফুজুর রহমান টিভি চ্যানেল, গান, গল্প থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কেন উন্নতি করছে।
তাকে কীভাবে পচানো যায়। এই অপচেষ্টায় আমার পথরোধ করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে এই মহলটি। যে যত সমালোচনা করুক আমার কোনো কাজ কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমার দুঃখ যারা সমালোচনা করেছে তারা কেউই গঠনমূলক সমালোচনা করেনি। তারা নোংরামি করেছে। তারা যদি বলত আপনার সুর, তাল, লয় বা গায়কীতে ভুল ছিল তবে তা মেনে নিয়ে শোধরানোর চেষ্টা করতাম। কোনো সংগীত পরিচালক, শিল্পী বা প্রখ্যাত সংগীতকার এখন পর্যন্ত বলেনি, আপনার গান ভুল ছিল। আবারও বলছি, যারা আমার গান নিয়ে সমালোচনা করেছে তাদের আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি আমাকে তারা দেখাক কোথায় আমার ভুল।
নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও আপনার গানের সমালোচনা করেছেন, কী বলবেন?

তসলিমা নাসরিনকে বলব আপনি গানের লিরিক, তাল, লয় করে দেখান, তারপর আপনার সমালোচনা আমি মেনে নেব। আমার কথা হলো কেউ যদি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের মুখ আমি বন্ধ করতে পারব না, আমি আমার কাজ নিয়ে এগোব এবং প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যাব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?
বর্তমানে এর ভালো ব্যবহারের চেয়ে মন্দটিই বেশি হচ্ছে। এতে সমাজে অনাচার বাড়ছে। রাত জেগে ছেলেমেয়েরা চ্যাটিং করে সকালে ঠিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নোংরামি, ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মতো নেতিবাচক ঘটনা অহরহ ঘটছে। ইদানীং ফেসবুকে ব্লু হোয়েল নামক একটি গেম চালু হয়েছে। যার ফলে ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের প্রতি নজর দেওয়া আর সরকারের কাছে অনুরোধ ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করুন। না হলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলে কিছুই থাকবে না। রাত ১২টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে একটি কথা বলতে চাই, চীনে কিন্তু ফেসবুক নেই। তাই বলে তারা কী উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে নাকি আরও এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সবাই ভেবে দেখলে ভালো হয়।

গানের প্রতি উৎসাহিত হলেন কীভাবে?
ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি দুর্বলতা ছিল। বাবা গান খুব পছন্দ করতেন। তিনি প্রখ্যাত শিল্পীদের গানের রেকর্ড নিয়ে আসতেন। বাসায় প্রচুর গানের রেকর্ড ছিল, যেখানে প্রখ্যাত কোনো শিল্পী বাদ ছিলেন না। পাশাপাশি খ্যাতিমান লেখকদের বিশাল বইয়ের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন বাবা। আমার দুই বোনকে গান শিখানোর জন্য দুজন শিক্ষক এবং দুজন যন্ত্রবাদক রেখেছিলেন। আমাকেও বাবা বোনদের সঙ্গে গান শেখাতে বসাতেন। এতে গানের সঙ্গে মিতালিটা আমার জন্য খুবই সহজ হয়ে পড়ে। গানকে বলা হয় গুরুমুখী বিদ্যা, গুরুর দীক্ষা ছাড়া ভালো গাওয়া সম্ভব হয় না, এ কথার সঙ্গে আপনি কী একমত?
গলা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত। গলা না থাকলে গুরু যেমন কিছু করতে পারে না তেমনি গুরু ছাড়া গান হয় না। গানের জন্য নিয়মিত রেওয়াজ দরকার। আমি ২০ বছর ধরে সংগীত চর্চা করে আসছি।

আপনার গানের গুরু কে?
আমার এই গায়ক হয়ে ওঠার পেছনে গুরু হিসেবে মান্নান মোহাম্মদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাকে ধন্যবাদ জানাই তিনি ধৈর্যসহকারে গান শিখিয়ে আমাকে এতটা পথ নিয়ে এসেছেন, তাকে আমি আমার গানের গুরু মানি।
ভারতের প্রখ্যাত সংগীতকার বাপ্পী লাহিড়ী আপনার গানের প্রশংসা করেছেন বলে শুনেছি, এ বিষয়ে কিছু বলবেন—
হ্যাঁ, বাপ্পী লাহিড়ীর মতো বিখ্যাত এই সংগীত ব্যক্তিত্ব আমাকে বলেছেন গান সম্পর্কে আপনার এত জ্ঞান হলো কীভাবে। আসলে আমি যখন স্টুডিওতে তার গান রেকর্ডিংয়ের সময় বসতাম তখন বলতাম বাপ্পী দা এখানে এই যন্ত্রের কাজ আসলে পারফেক্ট হচ্ছে না। তিনি বলতেন ঠিক বলেছেন এবং তা ঠিক করে নিতেন। গান সম্পর্কে আমার মেধা আর আইকিউ দেখে সত্যি তিনি অবাক হয়েছেন এবং প্রশংসা করেছেন। এটিই গানের ক্ষেত্রে আমার বড় প্রাপ্তি ও স্বীকৃতি।

আপনি তো চলচ্চিত্র আর নাটকের জন্য গল্প ও গান লিখেছেন, এ বিষয়ে কিছু জানতে চাই ‘ভালোবাসি তোমাকে’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’সহ অনেক ছবির গল্প লিখেছি, অনেক নাটকও রচনা করেছি, এর মধ্যে ৫০০ পর্বের ধারাবাহিক ‘ঘর জামাই’ অন্যতম। অনেক ছবি নাটকের আইডিয়াও আমার। গানও অনেক লিখেছি। এখন দুটি ছবি আর একটি মেগা সিরিয়াল লিখছি। সিরিয়ালটি এক হাজার পর্বের হবে। শুধু লিখা নয়, টেকনিক্যাল দিকেও আমি আমার মেধার স্বাক্ষর রেখেছি। ছোটবেলা থেকে ফটোগ্রাফির প্রতি ঝোঁক ছিল। বাবা দামি ক্যামেরা কিনে দিতেন। যখন আমি এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করলাম তখন ছোট ছোট হ্যান্ডি ক্যামেরা প্রথম আমি আনালাম। ক্যামেরা দিয়ে শুটের প্রপার টেকনিক বেশ ভালো পারি।

আমার টিভি চ্যানেলের ইঞ্জিনিয়ারদের আমি হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছি। ইভা রহমানের ৮টি গানের অ্যালবামের ফটোগ্রাফি আমার করা। আমিই প্রথম এদেশে ডলবি সাউন্ড সিস্টেম চালু করি। সফটওয়্যার ব্যবহার না করে ৭ স্পিকারে ম্যানুয়ালি সাউন্ড ব্যবহার করতাম। সিঙ্গাপুর থেকে ডলবি সিস্টেম সাত দিনে শিখেছি আমি। আসলে মাস্টারিংয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ আই কিউর ব্যাপার। আমার এই আইকিউ আছে বলেই সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়াটা আমার জন্য সহজ হয়েছে। আইকিউ শার্প না হলে একটি টিভি চ্যানেলকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে পারতাম না।

মেগা সিরিয়ালটি কী বিষয় নিয়ে রচনা করছেন?
এটি আমার সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আলপনায় আঁকি’ শিরোনামেই হবে। এ নাটকের টাইটেল সং হচ্ছে এই সংগীতানুষ্ঠানে আমার গাওয়া ‘চার দেয়ালের মাঝখানে আমি থাকি’ গানটি। এ মাসের শেষদিকে নাটকটির শুটিং শুরু হবে। নাটকের বিষয় হবে লাভ স্টোরি। একটি মুসলিম ছেলে ও হিন্দু মেয়ের প্রেম। যা সমাজ মেনে নেয় না। ডিসেম্বর থেকে নাটকটি অনএয়ারে যাবে। এর সফলতা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।

গান নিয়ে আপনার আগামী পরিকল্পনা কী?
প্রতি বছর ২/৩ জন শিল্পী উপহার দিতে চাই। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গানকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ও সম্প্রসারিত করতে চাই। আসলে আমি গাইব এটি বড় কথা নয়, আমি শিল্পী তৈরি করব এটিই আমার মূল পরিকল্পনা।
একজন টিভি চ্যানেলের সফল প্রতিষ্ঠাতা, গল্প, গান রচয়িতা, কণ্ঠশিল্পী এবং সমাজ সেবকের মধ্যে কোন পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
গান হচ্ছে আমার প্রধান হবি। যে বয়সে একজন শিল্পী গান থেকে অবসর নেয় সেই বয়সে আমি গাওয়া শুরু করলাম। গানই হচ্ছে আমার স্বাচ্ছন্দ্যের প্রধান জায়গা, গান নিয়ে আমি এগোতে চাই। আমি আমার লিখা কোনো সিনেমা বা নাটকের শুটিং দেখতে যাই না। কিন্ত গান রেকর্ডিংয়ের সময় উপস্থিত থাকি। যাতে গানিটি প্রপারলি হয় সে দিকে নজর রাখি। আর শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে পারলে খুব ভালো লাগে। আমাদের দেশে শিল্পীদের পারিশ্রমিক কম বলে একটা সময় যখন তারা কাজ পায় না তখন অসহায় হয়ে পড়ে। তাই শিল্পী নির্মাতাদের কল্যাণে একদিকে আমার চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করি না। অন্যদিকে আমার কাছে কেউ সহযোগিতা চাইলে তাকে খালি হাতে ফিরাই না। আমি শিল্পী ঐক্যজোট নামে একটি সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি। সংগঠনটি যেভাবে অসহায় শিল্পীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে তার জন্য এর কর্তাব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ তারা আমার স্বপ্ন পূরণ করছে।

সবশেষে আমি বলব আমার গান শুনে কারও আত্মহত্যা করার দরকার নেই। আপনাদের হাতে রিমোর্ট কন্ট্রোল আছে। ভালো না লাগলে অন্য চ্যানেলে চলে যান। তবে আমার ভালো গানের মেধা যে ভোঁতা নয় তা আগামীতে আবারও প্রমাণ করব।
উৎসঃ বিডি-প্রতিদিন

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View