Mountain View

একাধিক বিয়ে করে প্রতারণা করাই যার নেশা!

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৯, ২০১৭ at ৭:২৬ অপরাহ্ণ

বিয়ে করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিবাহিত স্বামীদের সাথে প্রতারণা করায় যে নারীর নেশা। একাধিক বিয়ে করে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে মোটা অংকের টাকা স্বামীদের নিকট থেকে নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করে বেড়িয়েছে ওই নারী।

অন্য পুরুষের নাম ব্যবহার করে স্বামী পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট করার অভিযোগও রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউপির সুজানগর গ্রামের জনাব আলীর ছেলে মো: হাবিব বাদী হয়ে রাজবাড়ী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যার মিস পি নং-১০৮৬/১৭।

ওই নারীর পাসপোর্ট নং – Bk0583297। একটি পাসপোর্টে দেখা গিয়েছে, তিনি আমেরিকা প্রবাসী মো: গোলাম আজমের নাম ব্যবহার করে পাসর্পোট তৈরি করেছেন সেখানে তাকে স্বামী উল্লেখ্য করেছেন।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর আমেরিকা প্রবাসী পাংশা থানায় সাধারণ ডাইরী করেছেন তাতে তিনি উল্লেখ্য করেন মোছা: লিপি খাতুন, পিতা: সামাদ মন্ডল, গ্রাম: বিষ্ণুপুর সে আমার নাম ব্যবহার করে যে পাসপোর্ট তৈরি করেছে তা আমার জানা নেই। সে আমার স্ত্রী নয়। আমাকে ফাঁসাতে এরুপ কর্মকাণ্ড করেছে বলে আমার ধারণা। পাংশা থানায় সাধারণ ডাইরী নং-৫৩৭ তাং-১৪/১১/২০১৭ইং।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিপি খাতুনের প্রথম বিয়ে হয় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাছবাড়ী ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে। এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় বেপরোয়া পথ চলা।

স্বামী মারা যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউপির পাট্টা গ্রামে একটি বিয়ে করেন ওই নারী। সেখানে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, এরপর উপজেলার বাবুপাড়া ইউপির সুজানগর গ্রামের হাবিব এর সাথে ২০১৫ সালে পরিচয় গোপন রেখে কুমারী হিসাবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে করেন।

বিয়ের তথ্য গোপন রেখে আমেরিকা প্রবাসীকে স্বামী হিসাবে দেখিয়ে পাসপোর্ট করেন এই নারী।
এদিকে ওই নারীর স্বামী হাবিব অভিযোগ করে বলেন, আমার নিকট থেকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে এবং বিদেশ যাওযার কথা বলে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হাবিব আরো বলেন, সে কখনো রুপা, নুপুর, সুমাইয়া, সিমি ও লিপি নাম ব্যবহার করে থাকেন।

তার রয়েছে একাধিক মোবাইল নম্বর এক এক সময় সে এক একেটি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করায় তার ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর পিতা একজন ভাল মানুষ তার কন্যা কিসের ব্যবসা করেন যার জন্য বিভিন্ন দেশে তার যেতে হয়, বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে চাই।

স্থানীয়রা জানান অল্পশিক্ষিত হলেও তার বেশ দেখে বুঝা যায় না সে কোন শ্রেণির মানুষ।

পোশাকে আভিজাতের ছোয়া, বাচন ভঙ্গী ভিন্ন রকম। এদিকে ওই নারীর ৩টি মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে প্রতিটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, এর বাইরেও সে আরো বিবাহ করে মানুষকে প্রতারিত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় বিদেশ যাওয়ার চেষ্ঠা করেছে।

একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি বর্তমানে ঢাকায় কোথাও আত্মগোপন করে আছে। সচেতন মহলের দাবি আর কোন পুরুষ যেন তার পাতানো ফাঁদে পা না দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও