Mountain View

সশস্ত্র বাহিনি দিবস আজ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২১, ২০১৭ at ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় ডেস্ক,বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ আজ ২১ নভেম্বর। সশস্ত্র বাহিনী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সশস্ত্র বাহিনি।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনির সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনি জাতির অহঙ্কার। মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা এ বাহিনির সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু দেশেই নয়; জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছেন তারা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক জনতা, মুক্তিবাহিনি, সশস্ত্র বাহিনি ও বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনির সদস্যরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনির বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। সম্মিলিত আক্রমণে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। সরকার সশস্ত্র বাহিনির আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব-স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনির সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি ও তাদের দোসরদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সাধারণ জণগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সমন্বিত আক্রমণ করে তারা। এর পর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনির সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এর পর সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনি প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনি প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনির পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনি প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনি বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এদিন।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনি ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ-সমৃদ্ধি ও সশস্ত্র বাহিনির উন্নতি কামনায় এদিন ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনির পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। ১০ জন সেনা, একজন নৌ ও একজন বিমানবাহিনির সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের শান্তিকালীন পদক প্রদান করবেন তিনি। এ ছাড়া ১০ জন সেনা, দু’জন নৌ, দু’জন বিমানবাহিনি সদস্যকে অসামান্য সেবা পদকে ভূষিত করা হবে।

সেনাকুঞ্জে বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। এতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতিগণ উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, ঢাকা এলাকার সংসদ সদস্যগণ, তিন বাহিনির প্রাক্তন প্রধান, ২০১৭ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠর উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনিতে চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে।

ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, বরিশাল, চাঁদপুরে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনি জাহাজ এদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এদিকে সশস্ত্র বাহিনি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তা (শহীদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ব্যতীত সব যানবাহন চালকদের সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেনানিবাস এলাকা দিয়ে চলাচল পরিহার করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও