সোমবার , জুলাই ২৩ ২০১৮, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > বিপিএলের উঠতি তারকারা
Mountain View

বিপিএলের উঠতি তারকারা

নানা আলোচনা-সমালোচনায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের পঞ্চম আসর। ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর শুধু ক্রিকেটের জৌলুস নিয়েই হাজির হয় না, সেই সাথে জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসারও প্ল্যাটফর্ম। যদিও পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটার ইস্যুতে এবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয় ক্রিকেটার উঠে আসা নিয়ে। তথাপি, যার প্রতিভা আছে সে সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। এমনই কয়েকজন তরুণ উঠতি তারকা ক্রিকেটার এবারের আসরেও সগর্বে মাঠ মাতাচ্ছেন। তাদের নিয়েই আজকের আলোচনা।

 

প্রথমেই আসা যাক বোলিং ডিপার্টমেন্টে। ঢাকা পর্বের প্রথম ফেজ শেষে সেরা পাঁচ বোলারের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করে আছেন খুলনা টাইটান্সের আবু জায়েদ এবং তৃতীয় স্থানে ঢাকা ডাইনামাইটসের আবু হায়দার রনি। বিপিএলে নিজের বোলিং দিয়ে নজর কেঁড়েছেন তরুণ পেসার আবু জায়েদ চৌধুরি। পঞ্চম আসরে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলছেন তিনি। গত জাতীয় লিগে পেস-স্পিন মিলিয়েই হয়েছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭১ উইকেট অর্জন করেছেন। গত আসরে ঢাকার হয়ে ৮ ম্যাচে ৯ উইকেট নিলেও মাত্র ৫.২৫ ইকোনমি রেট দিয়ে আলোচনায় আসেন রাহি।

এবার বিপিএলেও দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে খুলনা টাইটান্সের জয়ের নায়ক হওয়ার পথে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সিলেট পর্বে নিষ্প্রভ থাকলেও ঢাকা পর্বে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন তিনি। রানের চাকায় বাঁধ না দিতে পারলেও উইকেটের খাতা বেশ উজ্জ্বল। ঢাকা ফেজের নিজেদের শেষ ম্যাচেও ৪ ওভার বল করে ২৯ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে ২৩ ওভার বল করে ৭.৯৫ ইকোনমি রেটে ১২ উইকেট লাভ করেছেন আবু জায়েদ। শীর্ষ বোলারদের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থানকারী আবু জায়েদ ভবিষ্যতের তারকা এতে সন্দেহ নেই।

বিপিএলের ২০১৫ সালের আসরে আবির্ভাবেই সবাইকে চমকে দেন আবু হায়দার রনি। গড়েছিলেন বিপিএলে এক আসরে সবচেয়ে বেশি (১২ ম্যাচে ২১ উইকেট) উইকেটের রেকর্ড। সেবার দলের চ্যম্পিয়ন হওয়ার পিছনে রাখেন দুর্দান্ত অবদান। অনূর্ধ্ব-১৪,১৬,১৮’র গণ্ডি পেরিয়ে ২০১২ সালে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে সবার নজর কাড়েন তিনি। কাতারের বিপক্ষে এক ম্যাচে মাত্র ৫.৪ ওভারে ১০ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। তারপর বিপিএলের সেই কীর্তি।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলেছেন রনি। কিন্তু, নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলাফল দল থেকে বাদ পড়া। গত আসরের বরিশাল বুলসের হয়ে খেলে নিষ্প্রভ ছিলেন। ৭ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ওভার প্রতি খরচ করেছিলেন ৮.৬০ রান! হারিয়ে যেতে বসা এই প্রতিভাবান বোলার এবারের আসর মাত করেছেন। প্রথম ৭ ম্যাচে ৬.৬২ ইকোনমি রেটে ১৪৮ রান খরচে ১১ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ৩/১১। তার বোলিং দ্যুতি আর দলের বাকিদের দারুণ ফর্ম মিলিয়ে তার দলও এই মুহূর্তে শীর্ষে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, জাতীয় দলে আবার কড়া নাড়ার কাজটা ভালভাবেই করছেন আবু হায়দার।

উদীয়মান বোলারদের মধ্যে আরও আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলা মেহেদী হাসান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে চমকে দিয়েছেন। তার প্রথম শিকার কিউই কিংবদন্তী ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। বোল্ড হয়েছেন রংপুরের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীসও। প্রথম দুই ওভারে গেইল-ম্যাককালামকে মোকাবেলা করে রান দিয়েছেন মাত্র দুই। পরের ম্যাচে উইকেটশূন্য। তবে দুই ম্যাচে ৮ ওভার বল করে ৬.০০ ইকোনমি রেটে ২ উইকেট খুব একটা খারাপ শুরু বলা যাবে না। তবে এখনও বহু পথ বাকি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২২ ম্যাচে ২২ উইকেট আর তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৩৮.৭৭ গড়ে ১২০২ রান করা খুলনার এই তরুণের।

আরও এক তরুণ প্রতিভা মোহাম্মদ সাদ্দাম। অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলে নজর কারা এই মিডিয়াম পেসার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলে ৪ ওভার বল করে ১৯ রান খরচে ১ উইকেট পেয়েছেন। তবে পরের ম্যাচে অনুজ্জ্বল। নরসিংদীর ছেলে হোসেন আলীও রাজশাহী কিংসের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৮ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। পরের ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৩৮ রান খরচায় ১ উইকেট। এখন দেখার বিষয় কতদূর যেতে পারেন এই তরুণ বোলাররা।

এদিকে ব্যাটিংয়ে শীর্ষ তালিকায় সেরা দশে মাহমুদুল্লাহ, মুমিনুল, মোহাম্মদ মিঠুন ও ইমরুল কায়েস ছাড়া আর কোন দেশি খেলোয়াড় জায়গা পান নি। তবে সেরা বিশেও জায়গা না পাওয়া একজন খেলোয়াড় আছেন যাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত রাজশাহী কিংসের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। তার নাম জাকির হাসান। মাত্র তিন ম্যাচ খেলে রান ৮৭, এর মধ্যে একটি আবার ফিফটিও আছে। অনূর্ধ্ব ১৯ দল থেকে উঠে আসা মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ নিজের প্রথম বিপিএল ম্যাচেই সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে অপরাজিত ৫১ রান করে সবার নজরে আসেন।

৪৭ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৫০ রান এমন সমীকরণে জাকির হাসানের দ্রুতগতির ২৬ বলের অর্ধশতক ও মুশফিকুর রহিমের ২০ বলের ২৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী কিংস। পরের ম্যাচেও ঢাকর বিপক্ষে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তাও মাত্র ২৩ বলে। দলের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে এটিই ছিল সর্বোচ্চ স্কোর। যদিও নিজের তৃতীয় ম্যাচে শূন্য রানর ফিরেছেন তিনি। তবে তাকে নিয়ে প্রশংসা বাক্যের অভাব নেই।

রাজশাহী কিংসের দলপতি ড্যারেন স্যামি জাকিরের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘সে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে, আমি সবসময় ছেলেদের যেভাবে খেলতে অনুপ্রাণিত করি। সে দারুণ এক আবিষ্কার। আজ হোক বা কাল, তাকে সিনিয়র দলে খেলতে দেখবই।’

জাকির ছাড়াও খুলনার হয়ে আরিফুল হকও নজর কেঁড়েছেন। ৬ ম্যাচের ৫ ম্যাচে ব্যাটিং করে ৪২ গড়ে ১২৬ রান করেছেন এই তরুণ। চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৩৪ আর ৪০ রানের দুটি ইনিংস বেশ আশা জাগানিয়া। যদিও বল হাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভাল করেছেন, কিন্তু এবারের বিপিএলে বল হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। ঢাকা পর্বের প্রথম ফেজের ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে আরিফুলের অপরাজিত ১৯ বলে ৪৩ রানের কল্যাণে ২ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় খুলনা। তার এই দুর্দান্ত ব্যাটিং তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ খেতাব এনে দেয়। সব মিলিয়ে এই তরুণের দিকে সবার নজর থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে আরও নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ থাকছে সামনের ম্যাচগুলোতে। কারণ, অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ক্রিকেটাররা। এশিয়া কাপ মিশন শেষে গত শনিবার দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। যদিও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে বৃষ্টির কারণে ডিএল মেথডে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্ট একেবারে খারাপ কাটেনি যুবাদের।

গতকাল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইটান্সের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন যুব দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। খুলনা দলে রয়েছেন যুব দলের আরেক ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ধ্রুব। ইয়াসির আরফাত মিশু ও নাঈম হাসানকে দলে নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে বিপিএলের মতো জমজমাট আসরে সুযোগ পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন অনিক। তরুণ এই পেসারকে দলে ভিড়িয়েছে রাজশাহী কিংস।

বয়সভিত্তিক দলগুলোই মূলত প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়ার পাইপলাইন। এর আগেও বয়সভিত্তিক দলগুলো থেকেই বিপিএল এবং পরে জাতীয় দল মাতিয়েছেন অনেক ক্রিকেটার। যদিও পাঁচ বিদেশি নিয়মের কারণে অনেকে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না, তবে যারা সুযোগ পাচ্ছেন এদের ভিতর থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের ক্রিকেট তারকা এমনই প্রত্যাশা।

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Mountain View

Check Also

সাকিব-তামিমের পর মুশফিক ঝড়ে বড় সংগ্রহ বাংলাদেশের

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে হেরে বোলিং করতে নেমে তারা শুরুটা করতে চাইলো একটু ভিন্নভাবে। …

Leave a Reply