Mountain View

দ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৩, ২০১৭ at ৪:১৫ অপরাহ্ণ

সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন দলীয় সংসদ সদস্যরা। সভায় দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত এবং নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দ্বন্দ্ব সংঘাত ও গ্রুপিং ভুলে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নেতারাই আগামীতে মনোনয়ন পাবেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ‘

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আমি জরিপ করছি। মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় কার কী অবস্থান তার আমলনামা আমার কাছে আছে। জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটার বাড়ান, জনপ্রিয়তা ব্যারোমিটারে যারা এগিয়ে রয়েছেন তারাই মনোনয়ন পাবেন। কারো মুখ দেখে আমি মনোনয়ন দেব না। যারা এলাকায় নিজেদের অবস্থান বা গ্রহণযোগ্যতা রক্ষা করতে পারেননি, তিনি যত বড়ই নেতা হোন না কেন, আগামী মনোনয়ন পাবেন না। তাই কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কাজ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসী হয়ে নির্বাচনী এলাকায় থেকে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত আট বছরে দেশের যত উন্নয়ন করেছে, গত ৪০ বছরে অন্য সরকারগুলো তা করতে পারেনি। তাই ভোটে বিজয়ী হওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যান। দেশের জনগণ আমাদের পক্ষেই রয়েছেন। ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে আমরা বিজয়ী হব। ‘

তিনি বলেন, ‘আর কোনো সময় অপচয় নয়, নির্বাচনী এলাকায় জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের মন জয় করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সবার আমলনামা আমার হাতে রয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের কেউ পরাজিত করতে পারবে না। তাই এলাকার যার জনপ্রিয়তা রয়েছে, দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও জনগণ যার সঙ্গে রয়েছে- তিনিই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। ‘

একাধিক সংসদ সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল নাশকতা, দুর্নীতি, দুঃশাসন, আগুন সন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার প্রকৃত চিত্রও সারা দেশের ভোটারদের সামনে তুলে ধরার জন্য দলের এমপিদের নির্দেশ দেন। নির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের ‘ডিস্টার্ব’ না করার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্দেশ দেন তিনি।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭-৮ জন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন। তারা বলেন, অনেক মন্ত্রী রয়েছেন তাদের কাছে গেলে আমাদের কথা শোনেন না। আবার অনেক মন্ত্রী ইউএনও-ওসিকে ফোন করে আমাদের কথা না শোনার নির্দেশ দেন। আবার বেশ কয়েকজন তরুণ সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ‘আমরা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করলেও জ্যেষ্ঠ  নেতারা আমাদের পাত্তা দেন না। আবার কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন যারা নির্বাচনী এলাকায় আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন আমাদের কথা যেন তারা না শোনেন।

টাঙ্গাইল ৮ আসনের সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জ্যেষ্ঠ নেতারা অসহযোগিতা করেন। এমনকি কেউ কেউ সরাসরি বিরোধিতা করেন, যা দল ও সরকারের কাজকে বাধাগ্রস্থ করছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকার এক জ্যেষ্ঠ নেতা দল ও এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইল ৫ মো. ছানোয়ার হোসেন। ওই নেতার কারণে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

কৃষিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল হুইপ আতিউর রহমান আতিকের। চট্টগ্রাম ১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে এমপির নির্দেশনা না শোনার জন্য বলা হয়। তাহলে উন্নয়ন কাজ করবো কিভাবে?’ নেত্রকোনা ৩ আসনের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আগেও ষড়যন্ত্র ছিল, আগামীতেও থাকবে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ‘ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আরো অনেক উন্নয়ন পাইপ লাইনে আছে। এগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং বুঝাতে হবে সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যহত হবে। তাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামুন। একটি আসনে ১০ জন প্রার্থী থাকতেই পারে। সবাই সরকার, দল ও নৌকার পক্ষে ইতিবাচক কথা বলবেন। ‘

সংসদ অধিবেশন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বৈঠক শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আলোচনার পুরোটাই ছিল আগামী নির্বাচন কেন্দ্রিক। সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা জানান, নির্বাচনী প্রচারে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের দুর্নীতি-দুঃশাসন, অগ্নিসন্ত্রাসের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য এমপিদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীর পুত্রদের পাচারকৃত অর্থ সিঙ্গাপুর থেকে আমরা আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন বছরের পর বছর লন্ডনে বসে তারেক রহমান বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন। সেখানে পাচার করা অর্থ আমরা ফেরত আনতে পারিনি। জনগণকে বুঝাতে হবে এরা আবার ক্ষমতায় আসলে দেশ আবার অন্ধকারে ডুবে যাবে, উন্নয়ন-অগ্রগতি থমকে যাবে, দুর্নীতি-দুঃশাসন আবার ফিরে আসবে। ‘

এ সম্পর্কিত আরও