Mountain View

লেখকের বই আর লেখা নিয়ে যত কথা – পর্ব ০১

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৩, ২০১৭ at ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

(কাজী সাইফুল ইসলামের এর বই আর লেখা  নিয়ে  লেখকের সাথে রকিব রুবাইয়্যাত রহমানের কথোপকথন)

##এইতো আর ক’দিন পর ই ডিসেম্বর মাস, আপনার লেখা “জেগে ওঠার দিনগুলো” বইটি নিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম।

লেখক- কতোগুলো ঘটনা থাকে যেগুলো গোটা জাতীকে জাগিয়ে তোলে। মানুষের কাছে সেই সব ঘটনা অনিবার্য প্রয়োজন মনে হয়। মানুষ তখন সংসারের মায়ায় পড়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারে না। এক সময় যে ছেলেটির হাতে থাকতো রবীন্দ্রনাথ বা পাপলো নেরুদার, প্রেম আর প্রকৃতির কবিতার বই। সাহজেই সে হাতে তুলে নিতে পারে স্টেনগান, বোমা, মাইন্ড, গ্রেনেড। বুকের থাকে নজরুল, চেগুয়ে ভারা, হোচিমিন আর মেক্সিম গোর্মির মতো বিদ্রোহ। দেশের জন্য জীবন দেয়া তার কাছে হয়ে ওঠে গভীর আনন্দের ভালবাসার। ইউরোপ থেকে এসে প্রায় দু’শ বছর ব্রিটিশরা আমাদের শোষণ করলো। যে ভাবেই শোষণ করুক না কেন ঘটনা তো সত্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোট ইউরোপিয়ান উপনিবেশের কফিনে পেরেক পড়ে। এই দু’শ বছরে অনেক বার স্বাধীনাতার জন্য জেগে উঠেছিল বাঙলী। অবলিলায় জীবনও দিয়েছে। বিপ্লবী সংগঠগুলো স্বাদেশী আন্দোলন দুর্বার করে তুলেছিলেন। জেগে ওঠার দিনগুলিতে মূল্যত বাঙলী জাতির জেগে ওঠার সময়কে ধরার চেষ্টা ছিল আমার। ৪৭, ৫২, ৭১-এ বাঙলী যে জাগরণ তাই বলতে চেয়েছি একটি দীর্ঘ গল্পের মধ্যে দিয়ে। এটা একটি ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস। সময়েটা ঠিক রেখে চরিত্রগুলোকে সাজিয়েছি ইচ্ছে মতো।

কাজী সাইফুল ইসলাম

## আপনার লেখা “বায়ান্নর একুশ, জনকের জীবনগাথা, বঙ্গজননী” বইগুলো নিয়েও কিছু জানতে চাই।

লেখক- সুন্দর হয়ে বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিটি মানুষের একটি গর্বের জায়গা থাকতে হয়। যেমন- একটি শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে যদি বুঝতে পারে তার বাবা-মা সৎ জীবন যাপন করে। সেটাই তার গর্বের জায়গা। ঠিক তেমিন প্রতিটি জাতির একটি গর্বের জায়গা থাকতে হয়। না হলে জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়া যায় না। আমাদের গর্বের জায়গা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা স্বাধীন হয়েছিল। যে মানুষটি গোটা জাতিকে একসাথে করতে পেরেছিল তাকে সম্মান জানাতে দোষ কোথায়। কিন্তু বর্তমানে আমরা দুষণ রাজীতির মধ্যে আছি। এই ধরুন না- আমি বঙ্গবন্ধু এবং তার স্ত্রীর জীবন আলাদা দুটি বইয়ে বলতে চেষ্টা করেছি। তার জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছে আমাকে। আমি আওয়ামিলীগ করি . . . . . . অথচ এখন আর রাজনীতির ধারের কাছেও নেই আমি। ব্যক্তি আর দল এক নয়। “বায়ান্নর একুশ” বইতে আমি বলেছি- শহীদ বরকতের জীবন। কলকাতা থেকে আসা একটি মুসলিম ছেলে ( যার প্রিয় শহর ছিল ঢাকা) ভাষার জন্য রাজপথে নেমেছিলেন। তার পরের ঘটনা সবারই জানা। কিন্তু কেন তাকে কলকাতা ছড়াতে হলো তা অনেকেরই জানা নেই।

##আপনার বইগুলোতে অনেক বইয়ের রেফারেন্স দেওয়া আছে। এতো বই পড়ার সময় বের করেন কিভাবে?

-আমি বিশ্বাস করি চেষ্টার সাথে ভগ্যেকেও। তবে সব কিছুতেই একটি প্যাশন থাকতে হয়। বিদেশে আসার পরে ভাল একটি জব পেয়ে যাই। অফিসে বসে লেখালেখি করতে পারি। বাসায় বসে পড়তে পারি। তাছাড়া দুদিন ছুটি আছে। সবমিলিয়ে ম্যানেজ করে নিতে হয়।

##  বর্তমান সময়ে নতুন লেখকদের অধিকাংশই যখন প্রেম ভালোবাসা নারী অথবা সস্তা জনপ্রিয় লেখাতে ব্যস্ত, আপনি তখন সিরিয়াস টপিক এবং ন্যারেটিভ লেখায় সময় দিচ্ছেন কেন?

লেখক -কোন শিল্পি যখন গান করে তখন সে চায় তার গানটি জনপ্রিয় হোক। একজন লেখক অবশ্যই চায়- তার লেখা জনপ্রিয় হোক। কোটিকোটি মানুষ তার লেখা পড়ুক। তবে লেখকের লক্ষ রাখতে হবে, সে যেন কালের স্রোতে হারিয়ে না যায়। যে কাল সৃষ্টি করতে পারে সেই প্রকৃত লেখক।

## আপনার লেখাগুলো বা যদি বলি নতুনদের লেখাগুলোকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের ঠিক কী করা দরকার বলে আপনার কাছে মনে।

লেখক -একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের মধ্যে দিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছে যায় ভাল কাজ মন্দ কাজ। আমি বলবো- মিনিয়াগুলোর নতুনদের দিকে নজর দেবার সময় এসেছে। নতুন বলেই সে তুচ্ছ হবে কেন। কেউ নতুন এসেই ভাল লিখছে, প্রচার হচ্ছে না। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আবার কেউকেউ ধীরে ধীরে খুব ভাল কাজ করছে।

##সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে পাঠক আগের তুলনায় বাড়ছে। আপনার কাছে কী মনে হয়? সত্যিকার অর্থে পাঠক কী বাড়ছে?

লেখক- বর্তামান অবস্থা সম্পর্কে সেভাবে আমি কিছু বলতে পরবো না। তবে আমার মনে হয়- পাঠক বাড়বে। কারণ মানুষকে বইয়ের কাছেই ফিরে আসতে হবে। সন্ধ্যে হলে যেমন করে একটি মানুষ বাড়িতে ফিরে আসে। বাইরে ঘুরতে ভাল লাগে একটি সময় পর্যন্ত। সারা জীবন কেউ ঘুরে কাটাতে পারে না। প্রকৃতিও তাতে সায় দেয় না।

## পাঠ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বই বাছাই বা ভালো বইয়ের সাথে পরিচয় করে দেবার দায়িত্বটা কার বা কাদের বলে আপনার মনে হয়? নতুন পাঠকদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

-একজন পাঠক হয়ে ওঠা সত্যিই অত সহজ নয়। তবে আনন্দ খুঁজে নিতে পারলে এর চেয়ে সহজ আর সুখকর কিছুতেই নেই। এ ক্ষেত্রে প্রথমে নতুন পাঠককে বলতে হবে- তার কোন বিষয়টি পড়তে ভাল লাগে। প্রথমে সে তাই শুরু করবে। অনেকটা গান শোনার মতো। স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েকে যদি ক্লাসিক বা সেমিক্লাসিক শুনতে বলা হয়। তাহলে সে হয়ত গান শোনাই ছেড়ে দিবে। তার যা খুশি তা শুনতে থাক। তার পর সে নিজেই খুঁজে নিতে পারবে তার তাড়না থেকে।

এ সম্পর্কিত আরও