বিপিএলের ‘ফ্লপ’ একাদশ

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ at ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

পর্দা নেমেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের। অর্ধেকের বেশি সময় ধরে প্রাণহীন থাকা বিপিএল শেষ চার ম্যাচে ভালোই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন চলছে টুর্নামেন্টের চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর এতে সফল ব্যাটসম্যান বা বোলারের পাশাপাশি হতাশ করা ক্রিকেটারের সংখ্যাও কম নয়। প্রথম আলো অনলাইন চেষ্টা করেছে এবারের বিপিএলে ব্যর্থ ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে একটি একাদশ দাঁড় করাতে। এটিকে ‘ফ্লপ’ একাদশও বলা যেতে পারে।

সৌম্য সরকার
জাতীয় দলে একেবারেই ধারাবাহিক নন সৌম্য। প্রত্যাশার তুলনায় এই বাঁ হাতি ওপেনারের কাছ থেকে প্রাপ্তি খুবই কম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রান না পাওয়ায় এই বিপিএল ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ। তাতেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। চিটাগং ভাইকিংসের এই ওপেনার ১১ ইনিংসে করেছেন ১৬৯ রান, সর্বোচ্চ ৩৮।
রনি তালুকদার
দুই বছর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে গড়পড়তা অভিষেকের পর যেন হারিয়েই গেলেন। নানা কারণে মাঝখানে দৃশ্যপটের বাইরেই ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও রান পাননি। এবার একটি সুযোগ ছিল। রাজশাহী কিংসের হয়ে প্রথম ম্যাচে ৪৭ রান করে শুরুটা সুন্দর করেছিলেন। কিন্তু পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেননি। এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৮ ম্যাচ, রান করেছেন ১২৩। ফিফটিহীন টুর্নামেন্টে তাঁর সর্বোচ্চ রান ওই প্রথম ম্যাচের ৪৭-ই।
জস বাটলার
এবারের আসরের অন্যতম দামি খেলোয়াড়ের টুর্নামেন্টটা একেবারেই ভালো যায়নি। দল হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ভালো খেলায় ব্যাপারটা খুব চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ ম্যাচেই খেলেছেন তিনি। ১৪ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি করলেও ২২৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ১৩ ইনিংসে তাঁর মোট রান ব্যাটিং গড় মাত্র ১৮.৭৫। পয়সা খরচ করলেই যে সফলতা পাওয়া যায় না, তারই উদাহরণ হয়ে রইলেন বাটলার।

মুশফিকুর রহিম
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভীষণ বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বাংলাদেশের ‘সদ্য সাবেক’ টেস্ট অধিনায়ক। বিপিএলে মাঝেমধ্যে আলোর ঝলকানি দেখালেও মোটের ওপর ব্যর্থ হয়েছেন দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় এই তারকা। ১৮.৫০ গড়ে ১১ ইনিংসে তাঁর রান মাত্র ১৮৫। এবারের বিপিএলটা দ্রুতই ভুলে যেতে চাইবেন মুশফিক।

দেশিদের পাশাপাশি বিদেশি খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতায় ভুগেছে শেষ চারে
মিসবাহ উল হক (অধিনায়ক)
পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ককে কোন যুক্তিতে কিনে চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক বানিয়েছিল, তা এক রহস্যই। ব্যাটিং গড় চোখ কপালে তোলার মতো—৪১.৫০। এর কারণ ৪ ম্যাচের দুটিতেই অপরাজিত ছিলেন তিনি। মোট ৮৩ রান করেছেন ভাইকিংসের অধিনায়ক, বল খেলেছেন ৯১টি। কিছু ম্যাচে ব্যাটিং দিয়ে শুরুতেই দলকে পিছিয়ে দিয়েছিলেন, তা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তাঁর দল।

জেমস ফ্রাঙ্কলিন
নিউজিল্যান্ডের আরেক ‘বুড়ো’ অলরাউন্ডার জেমস ফ্রাঙ্কলিন খেলেছেন রাজশাহী কিংসে। গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ১১২.৪২ স্ট্রাইক রেটে ১১ ম্যাচে করেছেন ১১৮। বোলিংয়ে ম্যাচ জেতানো কোনো স্পেল নেই। বরং ৮.৮৩ ইকোনমি রেটে উদার হস্তে রান বিলিয়েছেন এই কিউই অলরাউন্ডার।

লুইস রিস
অখ্যাত এই ইংলিশ অলরাউন্ডার চিটাগং দলের আরেক বিস্ময়কর অন্তর্ভুক্তি। আদতে ওপেনার হলেও গোটা টুর্নামেন্টেই মিডল অর্ডারে ব্যাট করেছেন। ৮ ম্যাচে রান করেছেন ১৪১, উইকেট নিয়েছেন ৭টি। দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন রিস।

তানবীর হায়দার
১০ ম্যাচে ৩ উইকেট আর ৩৫ রান, তানবীর হায়দারের বিপিএল-দুর্দশা বোঝাতে এই তথ্যটুকুই। নিয়মিত হাত ঘুরিয়েছেন এই লেগ স্পিনার, তাতে লাভ হয়েছে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। ৯.১৯ ইকোনমি রেট নিয়ে যেন প্রতিপক্ষের প্রিয় বোলারে পরিণত হয়েছিলেন এই বোলিং-অলরাউন্ডার।

লাসিথ মালিঙ্গা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি হিসেবেই মালিঙ্গাকে দলে টেনেছিল চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এই শ্রীলঙ্কান ফাস্ট বোলার। ৮ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁকে। ইকোনমি রেটটাও ভালো নয়—৮.৬১।

শুভাশিস রায়
মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে ২২ গজেই ঝগড়া করে ক্রিকেটভক্তদের কাছে খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন শুভাশিস। বল হাতে তেমন কিছু করতে পারলে নিজের মুখটা রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটি করতে পারেননি। জাতীয় দলের নিয়মিত বোলার হয়েও ৫ ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ায় তিনিই ‘ফ্লপ’ একাদশের প্রধান বোলার।

তাইজুল ইসলাম
বরাবরের মতো এবারের বিপিএলেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন স্পিনাররা। অথচ জাতীয় দলে থাকা এই বাঁ হাতি স্পিনার সিলেট সিক্সার্সের হয়ে নজর কাড়ার মতো কিছু করতে পারেননি। ৮ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাকিব আল হাসান ২২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার হওয়ার পর তাইজুলের ব্যর্থতাটা বেশি করেই চোখে বিঁধছে।-প্রথম আলো

এ সম্পর্কিত আরও