বিপিএলে তরুণদের সেরা একাদশে রয়েছেন যারা

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ at ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সিজন-৫ এর পর্দা নেমেছে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাতেই। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের বিচার-বিশ্লেষণ করা। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের আসরের তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করেছে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল গোনিউজ২৪.কম।

অনুমিতভাবে গোনিউজ তাদের সেরা একাদশে অধিনায়ক হিসেবে স্থান দিয়েছেন রাজশাহী কিংসের তরুণ তুর্কী মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়কত্ব ভার বহন করেছেন মিরাজ। বর্তমানে জাতীয় দলে বেশ গর্বের সঙ্গে খেলছেন তিনি। মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন ছাড়াও বল ঘুরিয়ে তুলছেন উইকেট।

সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে নিজেকে খুব বেশি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মিরাজ। তাছাড়া অভিজ্ঞতার বিচারে মিরাজেই থাকছেন তরুণদের একাদশের দলপতি। এছাড়া তালিকায় সহঅধিনায়াকের ভুমিকা থাকবেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ তুর্কী ধ্রুব। আফিফ ছাড়াও রয়েছেন জাকির হাসান। আফিফ হোসেন ধ্রুব মূলতঃ গত বিপিএলের আবিস্কার। গতবার ঢাকার বিপক্ষে রাজশাহীর হয়ে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। ২১ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। এবার খেলেছেন খুলনা টাইটান্সের হয়ে। বল হাতে সেই ধ্রুবর দেখা এবারও মিলেছে। তবে উইকেট বেশি নিয়ে নয়, কৃপণ বোলিং করে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ২ ওভার বোলিং করে দিয়েছিলেন ৪ রান। উইকেট নিয়েছেন দুটি। ইকনোমি রেট ২ করে।

ব্যাট ও বল হাতে ছিলেন অনন্য
তবে ব্যাট হাতেও এবার ধ্রুব নিজেকে ছিনিয়েছেন। অর্থ্যাৎ তিনি যে একজন অলরাউন্ডার- তার প্রমাণ মিলেছে এবার। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে তার ব্যাটেই জিতেছিল একবার খুলনা টাইটান্স। ৩৮ বল খেলে করেছিলেন অপরাজিত ৫৪ রান। তার ওই ইনিংসে কোনো বাউন্ডারির মার নেই। ৫টি ছিল ছক্কার মার। ১৯ বছর এখনও হয়নি। এতটুকুন ছেলের বুকে কী অমিত সাহস!

ব্যাটিং বিভাগ

এছাড়া ব্যাটিং সেক্টরে দেখা যাবে নাজমুল হাসান শান্ত, রনি তালুকদার, ধ্রুব, জাকির হোসেন ও আরিফুল। যাদের মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলের বড় আবিস্কার অরিফুল হক। জাকির হোসেনও কম যান না ব্যাট হাতে। সুযোগ পেলে চমকে দিতে পারেন যখন তখন।

স্পিন বিভাগ:

এটি স্পিন বিভাগ হলেও এটিকে অলরাউন্ডার বিভাগও বলা চলে। এই বিভাগে মিরাজের নেতৃত্বে থাকছেন মেহেদী, নাহিদুল, নাজমুল। আর এই সেক্টরে মেহেদীর কথা বলতেই হয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই তরুণ প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন। তামিম প্রথম ওভার করার জন্য তার হাতেই বল তুলে দিলেন। আস্থার প্রতিদান রেখে শুরুতেই গেইলের বিপক্ষে জোরালো আবেদন তোলেন। আম্পায়ারের কৃপায় বেঁচে যান গেইল। কিন্তু ম্যাককালামকে ঠিকই তুলে নিলেন মেহেদী। এরপর বোল্ড করলেন শাহরিয়ার নাফীসকে। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই হলেন ম্যাচ সেরা।

মেহেদী হাসান আবারও রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নেমে একাই ধসিয়ে দেন মাশরাফিদের। ওপেনার জিয়াউর রহমান, ক্রিস গেইল, ওয়ানডাউনে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর নাহিদুল ইসলামকে ফিরিয়ে দেন বোল্ড করে। ২২ রান দিয়ে নিলেন ৪ উইকেট। তার কাছেই মূলতঃ হেরে গিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠলো মেহেদীর হাতে। যদিও ১০ ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে ১০ উইকেট।

পেস বিভাগ:

সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে পেস বিভাগে থাকছেন রনি ও জায়েদ। এই সেক্টরে আবু জায়েদের কথা বলতেই হয়। জায়েদকে নিয়ে সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে ছিল মাতামাতি। হওয়ার কারণও আছে। খুলনা টাইটান্সের এই বোলার চলতি বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন। খুলনা টাইটান্স যদি এলিমিনেটের ম্যাচ থেকে বাদ না পড়তেন নিসন্দেহে তিনি হতে পারতেন এই আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। কারণ রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ১৮ । আর প্রথমে থাকা সাকিবের ২২ (সবগুলো ম্যাচ খেলে)।

সে আর যাই হোক, বিপিএলে ১২টি ম্যাচ খেলে ৩৬৭ রান দিয়েছেন জায়েদ।

মেহেদী মিরাজ (অধিনায়ক), রনি তালুকদার, নাজমুল হাসান শান্ত, আরিফুল হক, আফিফ হোসেন ধ্রুব, জাকির হাসান, নাহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, নাজমুল ইসলাম সাইফুদ্দিন, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ।

এ সম্পর্কিত আরও