বিপিএলে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন ৫ তরুণ বাংলাদেশি

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ at ৫:১২ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক,বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ গেইল ঝড়ের মধ্যদিয়ে পর্দা নামল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের। একটি মাত্র শিরোপার জন্য প্রায় ৪০দিন ধরে ৭টি দল খেলল মোট ৪৬টি ম্যাচ। অবশেষে যোগ্য দলের হাতেই উঠলো ট্রফি। বিপিএলের পঞ্চম আসরের ট্রফি রংপুরের হাতে উঠলেও শিরোপার দৌঁড়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও খুলনা টাইটান্স। কিন্তু শেষের দিকে বাজে পারর্ফমে কপাল পুড়ল দুই দলের। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঢাকার বিপক্ষে হার ও দ্বিতীয়টিতে রংপুরের বিপক্ষে হারের মধ্যদিয়ে আসর থেকে বাদ পড়ে তামিমের নেতৃত্বাধীন দলটির।

গতবারের ন্যায় এবারো বিপিএলের শিরোপা এল পুরনো হাতেই। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিন কুমিল্লাকে হারিয়ে যখন রংপুর রাইডার্স ফাইনাল নিশ্চিত করল, তখনই সবাই জেনে গেল নতুন কোন অধিনায়কের হাতে বিপিএল ট্রফি ওঠার সম্ভাবনা শেষ। কারণ, আগের চারবারের মধ্যে তিনবারই শিরোপা জিতেছেন মাশরাফি। সর্বশেষ জিতেছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত ঢাকাকে ৫৭ রানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো মাশরাফি বিন মর্তোজার হাতেই উঠল বিপিএল পঞ্চম আসরের শিরোপা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক বিপিএল আয়োজনের যে উদ্দেশ্য ছিল সেটি মোটামুটি পূরণ হয়েছে এবারের বিপিএলে। প্রকৃতপক্ষে বিপএল আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল তরুণ তারকাদের উঠিয়ে আনা জাতীয় দলের জন্য। এছাড়া বর্তমান টিম থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের পারর্ফমের সুযোগ দিয়ে ফের দলে সুযোগ করে দেয়া।

এ হিসেবে এবারের বিপিএলে বেশ কয়েকজন তরুণ তারকা নিজেদের ভালোভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন। তরুণ মেহেদী হাসান, আরিফুল হক, আবু জায়েদ, শান্ত, জাকির, নাজমুল ইসলাম অপি, মোহাম্মদ মিঠুন নিজেদের চিনিয়েছেন আপন শক্তিতে।

আবু জায়েদ:

বিপিএলের চতুর্থ আসরেও আবু জায়েদ ছিলেন আলোচনায়। তবে চলতি বিপিএলে তাকে নিয়ে মাতামাতি হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। হওয়ার কারণও আছে। খুলনা টাইটান্সের এই বোলার চলতি বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন। খুলনা টাইটান্স যদি এলিমিনেটের ম্যাচ থেকে বাদ না পড়তেন নিসন্দেহে তিনি হতে পারতেন এই আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। কারণ রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ১৮ । আর প্রথমে থাকা সাকিবের ২২ (সবগুলো ম্যাচ খেলে)। সে আর যাই হোক, বিপিএলে ১২টি ম্যাচ খেলে ৩৬৭ রান দিয়েছেন জায়েদ।

মেহেদী হাসান:

কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন আগেরদিন রাতেই যখন বলেছিল, পরের ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে মেহেদী খেলবে। সেই রাতে নাকি ঘুমই আসেনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তরুণ অফ স্পিনার মেহেদী হাসানের। পরের দিন খেলতে নেমেই বাজিমাত। তামিম প্রথম ওভার করার জন্য তার হাতেই বল তুলে দিলেন। আস্থার প্রতিদান রেখে শুরুতেই গেইলের বিপক্ষে জোরালো আবেদন তোলেন। আম্পায়ারের কৃপায় বেঁচে যান গেইল। কিন্তু ম্যাককালামকে ঠিকই তুলে নিলেন মেহেদী। এরপর বোল্ড করলেন শাহরিয়ার নাফীসকে। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই হলেন ম্যাচ সেরা।

মেহেদী হাসান আবারও রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নেমে একাই ধসিয়ে দেন মাশরাফিদের। ওপেনার জিয়াউর রহমান, ক্রিস গেইল, ওয়ানডাউনে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর নাহিদুল ইসলামকে ফিরিয়ে দেন বোল্ড করে। ২২ রান দিয়ে নিলেন ৪ উইকেট। তার কাছেই মূলতঃ হেরে গিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠলো মেহেদীর হাতে। যদিও ১০ ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে ১০ উইকেট।

আরিফুল হক:

পিএল সিজন ৫ এ ১২ ম্যাচে ব্যাটিং করে ২৩৭ রান তুলেছেন আরিফুল হক। এই আরিফুলকে কেউ এতদিন না চিনলেও বিপিএল দিয়ে ঠিকই চিনেছে তাকে। ব্যাট হাতে ফিনিসিটা ভালোই দিতে পারেন আরিফুল। ২৯ গড়ে রান ছিল বিপিএলে। একজন তরুণ ব্যাটসম্যান হিসেবে এটি সত্যিই আসধারণ।

বলা যেতে পারে আরিফুল চলতি বিপিএলে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। কারণ আমাদের জাতীয় দলে বহুদিন ধরে যোগ্য ফিনিসার নেই। আর সেই কাজটা ভালোই করতে পারবেন আরিফুল।

জাকির হাসান:

অনুর্ধ্ব-১৯ দলে মেহেদী হাসান মিরাজের সতীর্থ ছিলেন জাকির হাসান। বিপিএলের পঞ্চম আসরে রাজশাহী কিংসের হয়ে নামেন জাকির। আসরটিতে নিজেকে পুরোপুরি চেনাতে ব্যর্থ হলেও কয়েকটি ম্যাচে দেখিয়েছেন বাজিমাত। বিশেষ করে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে খেললেন অপরাজিত ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংস। তার ব্যাটেই ওই ম্যাচে জয় পেয়েছিল রাজশাহী।সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে ৮ ম্যাচে ব্যাটিং করে ১৬৯ রান করেন জাকির। প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ২৪ রান করেছেন এই তরুণ।

নাজমুল হক শান্ত:

সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন নাজমুল হক শান্ত। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ক্রিকেটার বিপিএলের পঞ্চম আসরে ১২ টি ম্যাচ খেলেছেন। যাতে ১৭ গড়ে ২০৭ রান করেছেন তিনি।

শান্ত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত মুখ। ইতোমধ্যে দুরন্ত পারফর্মের কারণে তিনি রয়েছেন বিসিবির নজরে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে তিনি দেশের জন্য ভালো কিছু উপহার দেবেন।

নাজমুল ইসলাম অপু:

উইকেট নেয়ার পর নাগিনী ড্যান্সের কথা যত দিন মনে থাকবে ঠিক ততদিন সবাই স্মরণে রাখবে অপুকে। মাশরাফির নেতৃত্বে খেলা অপি চলতি বিপিএলে ছিলেন সবার টাইমলাইনে। সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে উইকেট সংগ্রহকারীর তালিকায় ১০ম স্থানে তার নাম। ১০ ম্যাচে বল ঘুরিয়ে ১২ উইকেট সংগ্রহ করেছেন তিনি।-gonews24

এ সম্পর্কিত আরও