কলকাতার হাইকোর্ট নিয়ে তথ্যচিত্র

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭ at ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হাইকোর্ট নিয়ে এবার একটি তথ্যচিত্র তৈরি হচ্ছে। আর এটি নির্মাণ করছেন প্রখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষ। তথ্য এবং ধারা বর্ণনা লিখেছেন প্রখ্যাত লেখক শংকর ওরফে মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। তথ্যচিত্রের শুটিং ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের একপ্রস্থ শুটিংও হয়েছে। ১২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের বিচারালয় এবং সেলুলয়েড কারাগারের শুটিং। ব্রিটিশ আমলে রাজনৈতিক বন্দীদের এই সেলুলয়েড কারাগারে বন্দী করে রাখা হতো।
এই তথ্যচিত্রের তথ্য এবং ধারা বর্ণনা লিখেছেন শংকর, যিনি একসময় কলকাতা হাইকোর্টের বিখ্যাত ব্যারিস্টার বারওয়েলের সহকারী ছিলেন। তাঁর কাছে হাইকোর্টের নানা কথা, নানা বিচার, নানা কাহিনি শুনেছেন। সেসব কাহিনির টুকরো ছবিও তুলে আনা হচ্ছে এই তথ্যচিত্রে। তুলে আনা হবে কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য মামলার কথাও। উঠে আসবে ভাওয়াল সন্ন্যাসীর মামলা, মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসির মামলা নিয়ে নানা কথাও।
২০১৫ সালের দিকে রাজ্য সরকার ও কলকাতা হাইকোর্ট মিলে ঠিক করে, এই ঐতিহাসিক কলকাতা হাইকোর্ট এবং হাইকোর্ট ভবন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরির। এ লক্ষ্যে হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। ২০১৬ সালে তথ্যচিত্রটি তৈরির ভার দেওয়া হয় পরিচালক গৌতম ঘোষকে। যদিও ঠিক হয় শুধু কলকাতা নয়, কলকাতা হাইকোর্টের পরিধির মধ্যে অন্য যেসব আদালত কাজ করেছে, সেসব বিচারালয়কেও তুলে আনা হবে এই তথ্যচিত্রে।
১৮৬২ সালে ফোর্ট উইলিয়ামে কলকাতা হাইকোর্টের পত্তন হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৬৬ সালে। তবে আজকের কলকাতা হাইকোর্ট ভবন এক ঐতিহাসিক ভবনরূপে স্বীকৃত। এই ভবনের নকশা করেন ওয়াল্টার গ্র্যানভিল। এই ভবনে সেই মধ্যযুগীয় চার্চের ছাপ আছে। সে সময় বাদামি পাথরের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের চুনাপাথর কাকো ও কায়েন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বার্নেস পিকক। আর প্রথম ভারতীয় বিচারপতি ছিলেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত। এই তথ্যচিত্রে ঐতিহাসিক কালের প্রখ্যাত আইনজীবীদের কথার পাশাপাশি জীবিত প্রবীণ আইনজীবীদেরও সাক্ষাৎকারও নেওয়া হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের আদলে তৈরি এই একই ধরনের আরেকটি ভবন রয়েছে বেলজিয়ামের ইপ্রি শহরে। সেটি প্রার্থনা ভবন, যার নাম ক্লোথ ভবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই প্রথম প্রার্থনা ভবনটি ধ্বংস হলে কলকাতার হাইকোর্ট ভবন দেখে তৈরি হয় কলকাতা হাইকোর্টের আদলে এই নতুন প্রার্থনা ভবনটি।

এ সম্পর্কিত আরও