কৃত্রিম ফুলে লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের শহীদ স্মরণ

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ at ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

বিজয়ের দিবসের প্রথম প্রহরে জাতির জনকের মূড়ালে কৃত্রিম পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব আলম, লোহাগাড়া থানার ওসি শাহজাহান পিপি এম (বার) সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে গিয়ে সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় শুধু লোহাগাড়ার সর্বোচ্চ প্রশাসন ই নয়, লোহাগাড়ার অনেক স্বনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে ও এ ধরনের প্লাস্টিক এবং কাপড়ের ফুল দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনদানকারী বীর সেনানীদের স্মরণ করা হয়েছে।

কৃ্ত্রিম ফুল দ্বারা যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ হতে বিজয়ের প্রথম প্রহরে পুষ্পমাল্য অর্পণকরা তাদের মধ্যে রয়েছে খোদ লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নাম ও। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই উপজেলা পরিষদের নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লোহাগাড়া শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও, তাদের অর্পণ করা ফুলে ও ছিলো কোন প্রাকৃতিক ফুল। উপজেলার শহীদ বেদীতে এখনো এ ধরনের ফুল অহরহ পড়ে রয়েছে।

গতকাল রাতেই উপজেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টার এর ফেসবুক আইডি থেকে এ ছবি সম্বলিত পোস্ট টি করা হয়। অনেক ফেসবুক ব্যবহার কারী ই এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান। তবে উপজেলা পরিষদের পোস্ট বলে কমেন্ট করা থেকে বিরত থেকেছেন।

কৃত্রিম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন জনতার মাঝে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া । স্বাধীন আহমেদ নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে শহীদদের তাজা রক্তে এদেশের মাটি এখনও ভেজা, সেখানে কৃত্রিম ফুলদিয়ে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন আমাদের ব্যাথিত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভের সাথে বলেন, উপজেলা পরিষদ হচ্ছে মুক্ত উপজেলার সর্বোচ্চ প্রশাসন, সেখানে সর্বোচ্চ ব্যক্তি হয়ে কিভাবে তিনি কৃত্রিম ফুল দিয়ে জীবনদাণকারীদের শ্রদ্ধা জানান। আর আমরাই বা তাঁর কাছ থেকে কি শিখব।

এই শীত মৌসুমে প্রাকৃতির ফুলের দাম একটু বেশীই থাকে। ফুলের দোকান গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন সাজসজ্জার কাজে কাপড়ের কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার ই বেশী। এটি সহজ লভ্য, টেকসই এবং সাশ্রয়ী। তাই এবার লাভের দিক বিবেচনা করেই বেশীর ভাগ পুষ্প স্তবকে এই প্লাস্টিক ও কাপড়ের তৈরী কৃত্রিম ফুল ব্যাবহার করা হয়েছে। তবে যারা আগে থেকে আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলে রেখেছেন তাদের গুলোতে প্রাকৃতিক ফুল দেয়া হয়েছে।

ওরা ব্যবসায়ী, মানুষের চেতনা নিয়ে ও এরা ব্যবসা করবেই এটা মানলাম। তবে আমরা চেতনার লালন পালনকারীরা কি দিয়ে এ লজ্জা ডাকব।

সময়ের সাথে কৃত্রিমতার ভীড়ে সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে সেটা ঠিক, আমদের যেভাবে ধরে রাখার কথা সেভাবে ধরে রাখতে পারছি না। তবে যে অস্তিত্বের উপর আমাদের জাতিসত্বা দাঁড়িয়ে আছে তা যদি আমরা যথা যোগ্য মর্যাদায় ধরে রাখতে না পারি, বীর সেনানীরা তাঁদের জীবন দিয়ে যে বার্তা দিয়ে গেছেন তা যদি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দিতে না পারি তাহলে তাঁর দ্বায়ভার আমরা কখনো এড়াতে পারি না।

সব জায়গায় কৃত্রিমতা মানায় না, এটা বুঝতে হবে, সর্বোপরি অন্তরে ধারন করতে হবে।

এ সম্পর্কিত আরও