টি-টেন ক্রিকেট: কুঁড়িতেই শেষ নাকি ভবিষ্যৎ?

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ at ১১:২৩ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক: ‘স্বল্প সময়ে অধিক বিনোদন’ এই প্রত্যাশা মেটাতে আবির্ভাব হয়েছিল টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের। এর চেয়েও কম সময়ে আরো বেশি বিনোদন দিতে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে টি-টেন ক্রিকেট লিগ। টি-টুয়েন্টির জন্মের পর ধীরে ধীরে তা গোটা ক্রিকেটবিশ্বে ছড়িয়ে যায়। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে টি-টেন যাবে কত দূর?

ক্রিকেটবিশ্বে টি-টেনের চেয়েও ছোট আসর আছে, সিক্স-এ সাইড। কিন্তু সেটি মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি কোনোদিন। দিন শেষে আসরটিকে ‘পিকনিক’ই বলা হয়। তবে টি-টেনকে কোনোভাবেই এখন পর্যন্ত পিকনিক আসর বলা যাচ্ছে না।

টি-টেনের বিশেষত্ব
টি-টেন আর ফুটবল ম্যাচের এক জায়গায় মিল আছে। ক্রিকেটের এই খুদে আসর ৯০ মিনিটে শেষ হচ্ছে। যা সিক্স-এ সাইড ম্যাচের মত একেবারে অল্প সময় নয়। আবার দর্শকরা চার-ছক্কার ফুলঝুরিও পর্যাপ্ত পরিমাণে উপভোগ করতে পারছেন। টি-টেন ব্যতিক্রম আরও এক জায়গায়।
টুর্নামেন্ট মাসব্যাপী চললে ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের খরচ বেশি হয়। ক্রিকেটারদের জন্য বিলাসবহুল হোটেলভাড়া গুনতে হয় বেশি। টি-টেন এখানেই চমক সৃষ্টি করেছে। শারজায় ১৪ ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ১৭ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে প্রথমবারের মত আয়োজিত এই লিগ। সবমিলিয়ে খেলা হচ্ছে মাত্র চার দিন!

আসর শুরু হওয়ার আগে আয়োজকদের বিশ্বাস ছিল ওয়ানডে কিংবা টি-টুয়েন্টির চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হবে ১০ ওভারের ক্রিকেট। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্যালারিভর্তি দর্শক সেই বিশ্বাসকে সত্য প্রমাণিত করেছে।

যা কিছু নতুন, তা নিয়ে আছে বিতর্ক। টি-টুয়েন্টি নিয়ে যেমন ছিল, হালের এই টি-টেন নিয়েও আছে। ক্রিকেটের মৌলিক আসর অর্থাৎ টেস্ট জাদুঘরে উঠবে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। উঠছেও।

যেভাবে এল টি-টেন টি-টেনের ধারণা প্রথম আসে একজন পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর মাথা থেকে। মূলক হোল্ডিংসের মালিক শাজি উল মূলককে বলা হচ্ছে এই ঘরানার জন্মদাতা।

প্রথম আসরে অংশ নিয়েছে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তিনটি করে দল খেলেছে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে। বাংলাদেশ থেকে তিনজন ক্রিকেটার সুযোগ পেলেও খেলছেন দুইজন। তামিম ইকবাল মাঠ মাতিয়েছেন। নিজের প্রথম ম্যাচে ২৭ বলে ৫৬ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশ সেরা অলরাউন্ডার। আরেকটি দলে খেলছেন সাকিব। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ দল পেলেও তাকে টুর্নামেন্টে খেলার ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

টি-টেন নিয়ে আইসিসি থেকে এখনো খুব একটা উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। তবে নিশ্চয়ই অনেক চিন্তাভাবনা করে লিগটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার শ্লোগান নিয়ে যে লিগের জন্ম তা টিকে থাকবে নাকি সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেটের মত পিকনিক ক্রিকেট হয়ে থাকবে সেটাই এখন দেখার।

এ সম্পর্কিত আরও