Mountain View

মুস্তাফিজের নেটের ঘাম ঝরানো অনুশীলন দেখে হাতুরুর ভয়!

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ১২:৩০ অপরাহ্ণ

অবশেষে নতুন বছরে ছন্দ খুঁজে পেয়েছেনকাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে খুঁজে পেয়েছেন নিজেকেও। সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল জানালেন, কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন মুস্তাফিজ। নেটের ঘাম ঝরানো অনুশীলনই ‘দ্য ফিজকে’ ফিরিয়ে এনেছে পুরনো রুপে।

আর এতে ভয়েই আছেন সাবেক টাইগার কোচ শ্রীলংকান বর্তমান কোচ হাতুরু সিংহে! সামনে লড়াই হবে বাংলাদেশ আর শ্রীলংকার। বাংলাদেশ দলের বর্তমানে প্রধান কোচ ছাড়াই ক্রিদেশিয় সিরিজ খেলছে। অলিখিত কোচ মাশরাফি সাকিবআর টিম ডিরেক্টর সুজন।

সোমবার ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁহাতি এই পেসার করেছেন ৪১টি ডট বল! তার হাত থেকে বের হওয়া একের পর এক স্লোয়ার-কাটারে ব্যাট চালাতেই ভয় পাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। নির্ধারিত ১০ ওভার, ২৯ রানের বিনিময়ে দুই উইকেট।

২০১৬ সালে জুলাইয়ে সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। এরপর আগস্টে সম্পন্ন হয় তার অস্ত্রোপচার। সেখান থেকেই ছন্দ হারান ফিজ। নির্বিষ হয়ে পড়ে তার কাটারগুলো। নিজেকে ফিরে পেতে মুস্তাফিজ শুরু করেন কঠোর অনুশীলন। যার ফলটা তিনি পেয়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে। অনুশীলনের এই সময়টাতে তার সঙ্গী ছিলেন বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হ্যালসল বলেন, ‘বেসবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্রিকেটারদের ইনজুরির মিল আছে। তারা নিয়মিত ৯০ মাইল বেগে বল ছোঁড়ে। তবে এই গতি অর্জন করতে তাদের কমপক্ষে দুই বছর লাগে। মুস্তাফিজের দিকে তাকান। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে সে নিয়মিত ৮৫ মাইল গতিতে বল করছে। তার কাটারগুলোতেও দেখা যাচ্ছে আগের ছাপ। সে নিজেকে ফিরে পেয়েছে। নেটে যেভাবে কঠোর অনুশীলন করেছে তা দেখার পর আপনার ভালো লাগবেই। ’

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১৭তম ওভারটা আলাদা করে নজর কেড়েছে সবার। বোলিংয়ে ছিলেন মুস্তাফিজ। সেই ওভারেই ব্রেন্ডন টেলর ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমের হাতে। এরপরই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা স্লিপে চারজন ও গালিতে দাঁড় করান একজনকে। এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরেই। দুই বছর পর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো।

এমন আক্রমণাত্মক ফিল্ড প্লেসিং দেখেই বোঝা যায়, মুস্তাফিজের আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিলো পুরো দলেই। এই আত্মবিশ্বাসী মুস্তাফিজকেই খুঁজছিলো বাংলাদেশ। যার প্রতিটা ডেলিভারিতেই মনে হতো, এই বুঝি উইকেট পড়লো!

মুস্তাফিজকে নিয়ে হ্যালসলের ভূয়সী প্রশংসা, ‘তার আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। নিজের শক্তির জায়গাটা নিয়ে সে নিয়মিত কাজ করছে। সাধারণত নেটে তামিম কিংবা মুশফিককে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে দেখা যায়। কিন্তু মুস্তাফিজের মতো একজন পেসার প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা নেটে সময় কাটায়। এটা দেখে আরও অনেকেই উৎসাহী হবে। ’

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।