Mountain View

৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ধ্বসে পড়ছে উদ্বোধনের আগেই

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২২, ২০১৮ at ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

 
টাঙ্গাইলের বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই টেরাখালী খালের উপর ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি নির্মিত সেতু হেলে পড়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ধ্বস। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে সেতুটি উদ্বোধনের আগেই হেলে গিয়ে ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১২৮টি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে বাসাইল উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে সাতটি ব্রিজ রয়েছে। সাতটি সেতুর মধ্যে চারটি সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান আছে। বাসাইলের ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি-ফুলবাড়িয়া রাস্তার নিকরাইল টেরাখালী সেতুর কাজ পায় মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি প্রায় তিন মাস আগে সমাপ্ত হয়। সেতুটি নির্মাণের সময়েই রড, সিমেন্ট ও বালুসহ খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানায় বাসাইল উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের কাছে। কিন্তু ওই কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা নেননি।

স্থানীয় বাবুল মিয়া ও জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সেতুটি নির্মাণের সময় ঠিকাদারকে দেখা যায়নি। সে সময় ধান কাটা শ্রমিকদের দিয়ে সেতুর কাজ করতে দেখা যায়। এসব অনিয়মের ব্যাপারে প্রকল্প কর্মকর্তাকে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ প্রকল্প কর্মকর্তার উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই সেতুটির এই অবস্থা।

রাসেল মিয়া বলেন, ১৫ গ্রামের সাথে বাসাইল উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ চলে আসছে। সেতুটি হেলে গিয়ে ধসে পড়ার আশঙ্কায় ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তাদেরকে এখন প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাসাইল উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতের কারণে ব্রিজটি হেলে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রকল্প অফিসের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পরিদর্শন করে গেছেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জাহিদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার স্বপ্না তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।