বুধবার , আগস্ট ১৫ ২০১৮, ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ঢাকা শহরে কোন ট্র্যাফিক জ্যাম থাকবে না যদি..
Mountain View

ঢাকা শহরে কোন ট্র্যাফিক জ্যাম থাকবে না যদি..


জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ
ঢাকা শহরে গত ৩০ বছর ধরেই প্রধানতম সমস্যার নাম ট্র্যাফিক জ্যাম। এই সময়ে সরকার পাল্টেছে, ঢাকা সিটির মেয়র বদলেছে শধু বদলায়নি এই অসহনীয় ট্রাফিক জ্যাম। মহানগরবাসীর জীবনকে বিষিয়ে তোলার জন্য এই ট্র্যাফিক জ্যামই যথেষ্ট। তবে কি মুক্তি মিলবে না এই অবস্থা থেকে? এর থেকে মুক্তিলাভের উপায় বের করতে নগর পরিকল্পনাবিদরাও একের পর এক মাস্টার প্ল্যান নিয়ে হাজির হয়েছেন। আখের লাভের লাভ কিছুই হয় নি। গত ১৫ বছরে ঢাকা শহরে ১০টিরও বেশি ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। তাতে ট্র্যাফিক জ্যাম কতটা কমেছে? র‌্যাংগস ভবন ভেঙে ফ্লাইওভার করায় তো উল্টো জ্যামই বেড়েছে।

শুরুতেই নেতিবাচক কথা শুনে হতাশ কিংবা হাপিয়ে উঠেছেন? ভেবেছিলেন সমাধান আছে? হ্যা অবশ্যই সমাধান আছে। সে জন্য হাজার কোটি টাকা খরচও হবে না। দরকার শুধু কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন। এখানেই রয়েছে যত সমস্যা। একবার চিন্তা করুণ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি শহরের তালিকায় রয়েছে ঢাকার নাম।

দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরের তালিকায় ১১তম স্থানটি দখল করেছে ঢাকা। ২০১৪ সালে শহরটির জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে এর সংখ্যা ছিল ৯৮ লাখের মতো। বর্তমানে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউশন পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকা হবে বিশ্বের তৃতীয় জনসংখ্যাবহুল শহর। ওই সময় এর জনসংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটি ৫২ লাখ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ইতিমধ্যে রাজধানীবাসী অনুভব করতে শুরু করেছে। তীব্র যানজট আর জলাবদ্ধতায় প্রায়ই শহরবাসীকে নাকাল করে ফেলে।

ঢাকা শহরের এই অসহনীয় ট্র্যাফিক জ্যাম থেকে পরিত্রাণ পেতে শতশত সভা সেমিনার হয়েছে। রাস্তায় রয়েছে পর্যাপ্ত ট্র্য্যাফিক পুলিশও তারপরও কেন যানজট কমছে? কারণ দুটো। প্রথমত শহরের আয়তন অনুযায়ী লোকসংখ্যা বেশি। দ্বিতীয়ত প্রাইভেট কারের সংখ্যা অনেক বেশি। পাবলিক বাসের মানও তেমনটা ভালো নয়। এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ঢাকা শহরের জনস্রোত থামাতে হবে। খেয়াল করে দেখবেন ঢাকা শহরে বছরে মোট ৭/৮ দিন কোন ট্রাফিক জ্যাম থাকে না। কারণ বছরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ঢাকায় মানুষের কোন চাপ থাকে না। তাই স্বাভাবিক কারণেই জ্যাম থাকে না। আমার কিছু পরিকল্পনা আছে যেগুলো সরকার চাইলেই বিবেচনা করে দেখতে পারে। এতে সুফল মিলবে ৯৯%। সে নিশ্চয়তা দিতে পারি। তবে দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে সে সিদ্ধান্তগুলো নিতেই হবে। যদিও কাজটা সহজ হবে না।

প্রথমত বলি, ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় সংখ্যা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী। এরপরের বৃহৎ সংখ্যা হচ্ছে চাকরিজীবি। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে ব্যাঙের ছাতার মত শতাধিক বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকার বাইরে স্থানাত্তর করতে হবে। কারণ শিক্ষার্থীদের কাজ হলো লেখা পড়া করা তাদের অহেতুক ঢাকা শহরের উপর চাপ বাড়ানোর কোন দরকার নেই। মন খারাপের কিছু নেই। বেসরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঢাকার আশেপাশের জেলায় নিলেই হবে। যেমন নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও টাংগাইল। শুধু এই একটা সিদ্ধান্তেই ট্র্যাফিক জ্যাম কমে যাবে ২৫ ভাগ। কারণ এই শতাধিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম করে হলেও ১০ লাখ। এত বিশাল একটা সংখ্যার মানুষের চাপ যদি নেমে যায় জানজট এমনিতেই কমে যাবে।

এরপর যে কাজটি করতে হবে, সেটি হচ্ছে ঢাকা শহরে কোন গার্মেন্টস কিংবা কল কারাখানা রাখা যাাবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস আর কারখানায় কয়েক লাখ মানুষ কাজ করেন। উন্নত বিশ্বের আর কোথাও এরকম রাজধানী শহরে এত সংখ্যক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি কিংবা কারখানা নেই। উৎপাদন করতে আমাকে রাজধানী শহরকে ব্যবহার করতে হবে কেন? সরকারের গুরুত্বপূর্ন সবকিছুই যেহেতু রাজধানীতে। নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, শপিং মল। সবকিছুই ঢাকাতে থাকুক। মানুষ দরকারে ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসবে। তাতে কোন অসুবিধা নেই। তাইবলে গার্মেন্টস কারখানায় কাজের জন্য ঢাকায় এসে মানুষজন ভীর করবে এমনটা প্রত্যাশিত নয়। হাজারীবাগের ট্যানারীর মত সরকারকে এসব গার্মেন্টস ও কারখানা ঢাকা থেকে বিদায় করার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাজটা কঠিন হতে পারে। কিন্তু ফলটা পাওয়া যাবে নগদ। ঢাকার উপর মানুষের চাপ কমবে।

ফলস্বরুপ অবধারিতভাবেই কমে যাবে ট্র্যাফিক জ্যাম। এজন্য আর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে না। সাথে আগের রুটিন ওয়ার্কগুলো আরো ভালোভাবে করতে পারে ট্র্যাফিক পুলিশ। ফুটপাথে হকারদের কোন দোকান থাকবে না। ফুটপাথ ক্লিয়ার রাখতে হবে। ঢাকার মূল সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ করতে হবে। লেন মেনে গাড়ী চালানো বাধ্যতামুলক না হলে জরিমানা। কেবল রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী ছাড়া কোন গাড়ীকেই উল্টো পথে নেয়া যাবে না। মন্ত্রীর গাড়ীও না। শুধু আইন থাকলে হবে না দেখাতে হবে তার প্রয়োগও। এরপর দেখুন ঢাকা শহরে ট্র্যাফিক জ্যাম থাকে কি না। আশা করছি সরকারের নীতি নির্ধারকরা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। বিষয়টি কার্যকর হলে প্রতিদিন ঢাকা শহরে আমাদের বেঁচে যাবে কয়েক হাজার কর্মঘন্টা। অপচয় রোধ হবে জ্বালানী।

লেখকঃ জাহিদুল ইসলাম, এডিটর ইন চীফ বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View

Check Also

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার মানহানির এক মামলায় ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি …