মঙ্গলবার , জুলাই ১৭ ২০১৮, ১১:২১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > বাংলাদেশি টপ অর্ডার :: পারফরম্যান্স ভিত্তিক নথি
Mountain View

বাংলাদেশি টপ অর্ডার :: পারফরম্যান্স ভিত্তিক নথি

স্পোর্টস ডেস্ক, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্যদের সাথে বর্তমান সদ্য আফগানদের সাথে দ্বিপক্ষীয় টি২০ সিরিজে তিনটি নাম সৌম্যে সরকার, সাব্বির রহমান, লিটন কুমার দাস। প্রথম বিষয় যেটা চোখে পড়ে তা হলো বিসিবির চুক্তি হতে বাতিল করা হয় সৌম্যে সরকার ও সাব্বির রহমানকে সাম্প্রতিক অফফর্মের জন্য। আরেকটু তাকালে দু’জনেই খেলেছেন ত্রিশের উপর ম্যাচ কিন্তু ক্যারিয়ার জুড়ে পারফর্মে সামান্য সাব্বির এগিয়ে থাকলেও সৌম্যে ফ্লপের খাতায় নাম উঠিয়েছেন।

লিটন কুমার দাস:

ঘরোয়াতে দিন দিন ধারাবাহিক ছন্দের ফোয়ারা ছোটালেও জাতীয় দলে বিবর্ণ তিনি বিশেষ করে টি২০ নিয়ে শুধু কথা বলছি আজ। এখন পর্যন্ত ৯ম্যাচ (২২,১০,১৭,৯,৩৪,
৪৩,৭,০,১১) খেলে একটি ডাকের সাহায্য তিনি সতের এভারেজ এ মোট ১৫৩রান করেছেন।
৪ম্যাচ ওপেন করতে নেমে একটি ডাকের সাহায্য ৪৩সর্বোচ্চতে ১৫.২৫এভারেজে ৬১রান করেছেন।

আবার তিন নম্বর পজিশনে নেমে ১ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৩৪রান করেন। দেশের মাটিতে তিন ম্যাচ খেলে ৪৯ আর বিদেশের মাটিতে ৬ম্যাচ খেলে ১০৪রান করেন যথাক্রমে ১৬.৩৩ ও ১৭.৩৩এভারেজে। সর্বশেষ (এবারের আফগান সিরিজ পূর্ব পর্যন্ত) এই বছর শেষ পাঁচ ম্যাচ খেলে ৪৩সর্বোচ্চ তে ৯৫রান করেন ১৯.০০এভারেজ তে। ঘরোয়া টি২০ বিপিএলে ১২ম্যাচ খেলে মাত্র ২১.৭৫ এভারেজে ২৬১রান করেন। তাছাড়া ঘরোয়াসহ ৫২টি টি২০ ম্যাচে ১৬.৮৪ এভারেজে ৭৭৫রান করেন।

সাব্বির রহমান:

বাংলাদেশের হয়ে ৩৯ম্যাচ খেলে ২৭.০৬ এভারেজ ৮৯৩রান করেছেন। ২০১৬সাল মুটামুটি ভালো হলেও গেলো দুই বছর বিবর্ণ সাব্বির। যাকে হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে শেষের দিকে রান তুলতে নেয়া সেখানে ব্যর্থ সাব্বির, ৬নম্বর পজিশনে ব্যাট করে তিনি ৬ম্যাচ খেলে একটি ডাকের সাথে মাত্র ৮৫রান করেছেন, এভারেজ মাত্র ১৪.১৭। আর ৫নম্বরে তাও ৬ম্যাচ খেলে ১৯.৪০এভারেজে ৯৭রান করেছেন। উন্নতি ৩নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৬ম্যাচে ৩২.৩২এভারেজে ৭১১রান তোলেন। সবশেষ ২০১৭সালে ৭ম্যাচ খেলে ৪৮রান সর্বোচ্চতে ১৪১রান করেন ২০.১৪এভারেজ আর ২০১৮তে ৬ম্যাচ খেলে ৭৭সর্বোচ্চতে একবার ডাকের সাথে ১৪৮রান করেন ২৪.৬৭এভারেজ এ। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এ নিষিদ্ধ আবার বিপিএলেও বিবর্ণ ১০ম্যাচ খেলে ২১১রান করেন যেখানে এভারেজ ২৩.৪৪।

সৌম্যে সরকার:

ওপেনিং কয়েক ম্যাচ ভালো করাতে পেয়েছেন সেখানে দায়িত্ব যার ব্যাটের আলতো ছোঁয়ায় বল সীমানা খুঁজে পায়। টি২০তে আরো মানানসই হওয়ার কথা সে কথাগুলো। কিন্তু ২৪-৪-২০১৫তে অভিষেক ম্যাচ ডাক দিয়ে শুরু করা

(১৫-০২-২০১৮) ২৭তম ম্যাচে এসে পেয়েছেন প্রথম ফিফটির দেখা মাঝে কেটে গেসে দুই বছর। মোট ৩৩ম্যাচে আছে ৫টি ডাক মারার গল্প আর ব্যাট হতে এসেছে মাত্র ১৯.২৪এভারেজে ৬৩৫। যার মধ্যে ২৫ম্যাচ ওপেন করতে নেমে ৪টি ডাকের সাথে ক্যারিয়ারে ওই একটিমাত্র ফিফটিতে ৫৩৩রান করেন ২১.৩২এভারেজে। তালিকায় ৩নম্বর পজিশনে ২বার ব্যাট হাতে ২৫রান করেন। ৪নাম্বার পজিশনে নেমে ১রান আর ৫নাম্বার পজিশন ৪বার ব্যাট করে ১ডাকের সাথে ৫৫রান করেন এবং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আসা ৭ম পজিশনে ব্যাটে ২১রান করেন। সেখানেই ফিট ছিলেন সৌম্যে কিন্তু দ্রুত দলীয় সাফল্যে পেতে ক্যারিয়ারটাই নিরামিষ যাচ্ছে। সর্বশেষ ৬ইনিংস ব্যাট করে ৫০রান যেখানে এভারেজ মাত্র ৮.৩৩। যে ঘরোয়া দিয়ে জাতীয় দলে আসার সিড়ি তৈরি হয় সেই বিপিএল ১১ম্যাচ খেলে ৩৮সর্বোচ্চতে মাত্র ১৫.৩৬এভারেজে রান করেন ১৬৯, টি২০ ফরম্যাট হলেও এই রান যোগ করতে আবার বল খেলেছেন ১৭২টি। আন্তর্জাতিক ৩৩ম্যাচের মাঝে আরেকটি বিষয় দেশের মাটিতে ১৪ম্যাচে ৩ডাকের সাথে ২৭৫রান করেন ১৯.৬৪এভারেজে আর বিদেশের মাটিতে ১৯ম্যাচ খেলে ২ডাকের সাথে ১৮.৯৫ এভারেজে করেছেন ৩৬০রান। তাছাড়া ঘরোয়াসহ মোট ৮৫ ম্যাচ টি২০-তে ৪টি ফিফটিতে মাত্র ১৬.৯৩ এভারেজ নিয়ে ৫৮* সর্বোচ্চতে ১৩৫৫ রান করেন যেখানে বল খেলেছেন ১২০০টি।

শামসুর রহমান শুভ::

৯টি আন্তর্জাতিক টি২০ম্যাচ খেলে নিজের নামের পাশে সুবিচার করতে পারেন নি, পেয়েছেন একটি ফিফটি। তিনি যে আন্তর্জাতিক টি২০তে থাকার যোগ্য এই বিষয় বলতে গেলে ওয়ানডেতে ৯৬রানের ইনিংস টা টানতেই হবে, যেখানে কিউইরা ৩০০রানের টার্গেট দিয়েছিলো সেটা চেজ করে জয়ের হাসি এনে দিতে যে মাপের ব্যাটিং প্রয়োজন ছিলো! শামসুর রহমান তেমনি মারকাটারি ব্যাটিং করে ৯৬রানের সে ইনিংস খেলে দলকে জয়ের হাসিতে পরিণত করেন আরেকবার কিউইবধের নেতৃত্ব দিয়ে। সে ইনিংস কে মূল্যায়ন করে টি২০ ও ওয়ানডের টপ অর্ডার পজিশনে থাকাটাই প্রাপ্য। এনসিএলে লংগার ভার্সন ম্যাচে ৬৯বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন।

এই সবশেষ ডিপিএলে ১১ম্যাচে ব্যাট হাতে করেন ১২৩* সর্বোচ্চ তে ৪৫.৮০এভারেজে ৪৫৮রান তিনি। মোহামেডান যে কয়টি জয় পেয়েছে সেগুলোতে ছিল তাঁর ম্যাচ জয়ের ইনিংস। দেশের হয়ে টানা ৪টি ফিফটিও করেছিলেন সাথে ওয়ানডে ও টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে দুই ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি আর টি২০তে ফিফটি দিয়ে নিজেকে আরো সুযোগ প্রদানের যোগ্যতাটি অবশ্যই প্রাপ্য এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের। যেখানে একজন লিটন কুমার দাস ৯ম্যাচ খেলে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারে নি বটেও আবারো সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে মেলে ধরার যদিও সেটা খেলোয়াড়দের পাওনা বলতেও হয় নিঃসংকোচে তাহলে সেখানে শামসুর রহমান শুভ দল হতেই হারিয়ে যান কিভাবে! প্রশ্নটা আরো ফুটে ৯৬রানের ইনিংস টা ওডিয়াই,টেস্ট সেঞ্চুরি আর টি২০-তে ফিফটির স্বাদে উইলো দ্যুতি ওখানেই থেমে যাওয়াটা সুষ্ঠ বিবেকের দ্বারপ্রান্তে। ঘরোয়াসহ মোট ৪০ম্যাচ টি২০-তে ২৩.৭৮ এভারেজে ৯৮* সর্বোচ্চতে ৮৮০রান করেন।

এনামুল হক বিজয় :

২০০৮সালে দেশের ক্রিকেটের গণ্ডিতে প্রবেশ করে তাক লাগানো পারফর্ম তারপর অ-১৯এ নেতৃত্বের সাথে পারফর্ম আরো দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ে আসে বিজয়কে, সেসব সবার জানা কথা। লাল-সবুজ জাতীয় দলের জার্সিতে সেটি প্রমাণ করেও ফেলেন এই প্রতিভাবান, বিশেষ করে ওয়ানডে ও টি২০তে নামের সুবিচার করতে সক্ষম হন, যেটি সাম্প্রতিক সময়ে আসা কোনো ব্যাটসম্যান করে দেখাতে পারেনি। শুধুমাত্র টি২০ ক্যারিয়ার নিয়ে একটু আলোকপাত ঘটুক অন্যদের মতো করে।

আরেকটি বিষয় তিনি বেশ সময় ধরে পারফর্মের দ্বারা অব্যাহত রাখলেও অদৃশ্য কারণে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারছেন না। সাথে আবার সাম্প্রতিক সময়ে চায়ের-আড্ডায় যারা ঝড় তোলেন বিজয় শুধু ঘরোয়ালীগেই পারফর্ম করছেন কিন্তু লাল-সবুজে ব্যর্থ সেদিকের ইস্যুটাও স্পষ্ট হয়ে যাবে সুষ্ঠ বিবেকের কাছে!

জাতীয় দলে মোট ১৩টি আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ খেলেছেন, যথাক্রমে ২০১২সালে একটি ও ২০১৪সালে ১০টি এবং ২০১৫সালে ২টি। এই ফরম্যাটে দ্বিতীয় ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। মোট ১৩ম্যাচে ৩২.২৭ এভারেজে স্ট্রাইক রেট ১১৭.৯৪ নিয়ে ৩৫৫রান করেছেন।

২০১২সালে ২২এভারেজে ১৮৩.৩৩স্ট্রাইক রেট নিয়ে অভিষেক ২২রান, ২০১৪সালে ১০ম্যাচে ২বার নট থেকে ৩৫.৬৩এভারেজ ও ১২০.৭৬ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ২৮৫রান করেন। ২০১৫সালে ১০০এর কাছাকাছি স্ট্রাইক নিয়ে ৪৮রান করেন।

এই রানগুলো করতে প্রিয় স্থান ওপেনিংয়ে ১০নেমে ২বার নট আউট থেকে ২২৬রান করেন যেখানে এভারেজ ২৮.২৫ ও স্ট্রাইক রেট ১২০.২১। আর তিন ম্যাচ তিন নম্বর পজিশনে নেমে ৫৮সর্বাচ্চতে ১২৯রান করেন সেখানে ঈর্ষানিত এভারেজ ৪৩.০০ আর স্ট্রাইক রেট ১১৪.১৬। ছোট পরিসরে প্রথম ৬ম্যাচে ১বার নট থেকে ১৬০রান করেন যাতে এভারেজ ৩২.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৪.৪৭ পরের ৭ইনিংস ব্যাট করে ১৩১.৭৬ স্ট্রাইক রেটে ৩২.৫০এভারেজে ১৯৫রান তোলেন। আবার কন্ডিশনেও সফল দেশের মাটিতে ১২ম্যাচ খেলে ১বার নট থেকে ৩০.৫৫ এভারেজ আর ১১৯.৩৭স্ট্রাইক রেটে ৩২৬রান করেন। সাথে বিদেশের মাটিতে ১ম্যাচ সুযোগ পেয়ে ৩৪.০০এভারেজ ও ১০০.২৫ স্ট্রাইক রেটে উইলো দ্যুতি ছড়িয়েছেন। আরেকটি তথ্য জুড়ে যায় ঘরোয়াসহ ৮৫ টি২০ ম্যাচে ৮০ইনিংস ব্যাট করে ৮টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি (১০৫) – তে ২৬.৫৩ এভারেজে ১৮৮৪রান করেছেন।

জাতীয় দলে ফিরতে মরিয়া কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে পূর্ব হতে আরো পরিপক্ব করে তুলেছেন। তাইতো লংগার ভার্সনে ডাবল সেঞ্চুরি ডিপিএলে যেভাবে শুরু করেছেন হাজার হওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিলে ৫রান কম নিয়ে টুর্নামেন্ট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৭৪৪) রান করতে সক্ষম হন।

বিপিএলেও পজিশন মারপ্যাঁচে ৮ম্যাচ খেলে ২০৬রান যোগ করেন, যার মাঝে ২৯এভারেজ আর ৬৩ এবং ৭৩ রানের ইনিংস দুটি ক্রিড়াপ্রেমীদের আবারো আশা সঞ্চারিত করে।

চায়ের-কাপে এই প্রতিভাকে নিয়ে যারা ইদানীং নতুন কথা ফুটিয়ে তোলেন তাদের সুষ্ঠ বিবেকের কাছে তাই প্রশ্ন তো অবধারিত? এই নথিপত্রগুলো সংগ্রহ করে হাতে তুলে দিলাম! বিজয় শুধু ঘরোয়া লীগের জন্য নয় সে এসেছে রাজ করতে ঘরোয়া কি আন্তর্জাতিক প্রতিটা ফরম্যাটে প্রতিটা ম্যাচেই পৌঁছতে চান এভারেস্ট সমান, ২২গজের পিচ আপন করে নিয়েছে তাঁকে অটুট হয়ে থাকুন নিজের আপন আলোয় উজ্জ্বল প্রদীপ লাল-সবুজ উড়িয়ে নিতে…

*মূল্যায়ণ হোক পারফরম্যান্সের! আর এগিয়ে যাক টাইগার ক্রিকেট।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Mountain View

Check Also

র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশ ভালো চমক দেখালেন ১৮ বছরের নাহিদা

স্পোর্টস ডেস্ক,বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ দুর্দান্ত ফর্মে আছে বাংলাদেশ মহিলা দল। একের পর এক জয়ে বাংলাদেশ …