মঙ্গলবার , জুলাই ১৭ ২০১৮, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > অর্থনীতি > বাজেটে অন্যতম বিবেচনার বিষয় ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী
Mountain View

বাজেটে অন্যতম বিবেচনার বিষয় ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে এ যাবৎ তার পেশ করা বাজেটগুলোর মধ্যে সেরা বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবে অন্যতম বিবেচনার বিষয় ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি।
অর্থমন্ত্রী বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বাজেট আলোচনার ওপর তার সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৭ জুন আমি জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করি। বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনকালে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দশম এবং আমার মোট ১২টি বাজেটের শ্রেষ্ঠতম বাজেট হচ্ছে এটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে একজন স্বীকৃত আন্তর্জাতিক উচ্চ পর্যায়ের নেতা। আমাদের দেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার টানা দুই মেয়াদের শেষটি এই বাজেট এবং এই ১০টি বাজেটেই তার পরামর্শ এবং দিক-নির্দেশনা বাজেটগুলোকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করেছে।

এই বাজেট প্রস্তাব ইলেক্ট্রনিক ও মুদ্রিত মাধ্যমে, সংসদে এবং ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ভালোমন্দ সমালোচনা হয়েছে এবং অনেক পরামর্শ আমি পেয়েছি। যারা বাজেট প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে এবং নিজেদের মতামত যুক্ত করে মন্তব্য দিয়েছেন তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা/সমালোচনায় একটি মন্তব্য করা যায় যে, বাজেট বিষয়ে জনগণের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে এবং আমরা জনগণকে এ প্রক্রিয়ার সাথে অধিকতর সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।

আমাদের সরকার ২০০৯ সালে থেকেই যে দু’টি বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয় তা হলো রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বাজেটের আয়তনের প্রসার।’
তিনি বলেন, ‘মোটাদাগে অর্থনৈতিক নীতি-কৌশলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চহিদা তথা ভোগ ও বিনিয়োগ এবং বহি:স্থ চাহিদা তথা রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে বাজেটে। আমরা যেসব প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়েছি তার মধ্যে অন্যতম ছিল টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি। এর সুস্পষ্ট উল্লেখ বাজেট বক্তৃতায় রয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ৭.৮ শতাংশ। বিবিএস-এর সাময়িক হিসাবমতে বিগত দুই বছরের মত চলতি অর্থবছরেও আমরা লক্ষ্যমাত্রা (৭.৪ শতাংশ) ছাড়িয়ে ৭.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.০৫ শতাংশ, যার বিপরীতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭.১১ শতাংশ। এর পরবর্তী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয় ৭.৪ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ শক্তিশালী ধারা সামনের দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, রপ্তানির গতিধারা বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাস আয় বেড়েছে ১৭.৫ শতাংশ। রপ্তানির ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৭ শতাংশ, বিগত অর্থবছরে যা ছিল মাত্র ৩.১ শতাংশ। সুদের হারের ব্যবধান হ্রাস ও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় বলেছি যে, এটি বেশ আশাব্যঞ্জক। মুদ্রাবাজারে সাময়িক তারল্য ভারসাম্যহীনতা নিয়েও আমি আলোচনা করেছি। এই দু’টি বিষয়ে অনেক শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তার জবাবে আমি বলতে পারি যে, আমরা এবিষয়ে সচেতন এবং নানাভাবে সামগ্রিক গতিশীলতা বজায় রাখতে উদগ্রীব।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটের আকার নিয়ে যখন কথা বলা হয় তখন এক উচ্চাভিলাষী, নির্বাচনী বাজেট, বাস্তবায়নের অযোগ্য ইত্যাদি নামে অভিহিত করার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে, খাতভিত্তিক বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতা নিয়ে অনেকে কথা বলেন। সময়ের বিবর্তনে ও দেশের আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে তথ্য-প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সম্পদ বন্টনের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ফলে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বণ্টনগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। বলাবাহুল্য, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে নতুন-পুরাতন, সকল খাতেই বাজেট বরাদ্দ ক্রমশ অনেকখানি বেড়েছে। জিডিপি ও বাজেট আকার একই সাথে অনেক বাড়ায় জিডিপিভিত্তিক বা বাজেটভিত্তিক পরিবর্তন তেমন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

আমাদের সরকার ২০০৯ সালে একটি ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু একসঙ্গে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। সেজন্য এই প্রকল্পটি ২০০৯ সাল থেকেই প্রতিবছর কয়েকটি থানায় শুরু করা হয়। তার ফলে এদেশে কর্মসংস্থানে তেমন অসুবিধা হয় না।

এছাড়া মনে রাখা উচিত যে, আমরা প্রতিবছর নিম্নতম ৫ লাখ শ্রমিককে বিদেশে প্রেরণ করি। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ১০ লক্ষাধিক শ্রমিককে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও দেশে দক্ষতা আহরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বহু প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাখাতের একটি বিষয়ে আমি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে চাই। প্রায় ৯ বছর এমপিওভুক্তি বন্ধ রাখার পরে আগামী ১লা জুলাই থেকে এমপিওভুক্তি খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এমপিও ব্যবস্থাটি পরিবর্তনের জন্য প্রত্যেক এলাকায়ই কিছু বরাদ্দ দেয়া হবে। জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরির জন্য অতিরিক্ত কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আমাদের সরকার জনগণের সরকার। প্রতিটি পদক্ষেপের উপর জনগণের মতামত আমাদের সঠিক পথে চলার নির্দেশনা দেয়। তাই সমালোচনা গ্রহণের উদারতা আমাদের রয়েছে। আমাদের সরকার জনগণের পাশে আছে, জনগণ আছে আমাদের সাথে। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা ক্রমশ শাণিত করছি।’

তিনি বলেন, ‘সমাপনী বক্তব্যে আমি দৃঢ়কণ্ঠে জানাতে চাই যে, আমার অশোধনীয় আশাবাদ মোটেই শিথিল হয় নি। আমি বসে আছি ‘রূপকল্প-২০৪১’ এর প্রারম্ভিক উদ্যোগের প্রথম ফসল একটি নাতিদীর্ঘ বিবৃতির জন্য যেখানে থাকবে রূপকল্পের সূচিপত্র এবং প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য সার-সংক্ষেপ। সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় দেখতে চাই টগবগে যৌবনের অধিকারী দু:সাহসী শরীকদের যারা টেনে উঠাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে।

যাদের সেই টানে দারিদ্র্য এ দেশ থেকে হবে বিতাড়িত। ২০৩০ সালে নয় ২০২৪ সালেই আমরা পৌঁছতে চাই সেই শুভলগ্নে। মানুষের অধিকার নিয়ে সবাই বিচরণ করবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায়।’

তথ্যঃরাইজিংবিডি।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Mountain View

Check Also

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটার বিরুদ্ধেই সাম্প্রতিক আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রতিক কোটা বিরোধী আন্দোলন প্রচ্ছন্নভাবে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটার বিরুদ্ধেই আন্দোলন। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ …