উইকিলিকসের দাবি আইএস-এর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন হিলারি (ভিডিও)

isis

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন হিলারি ক্লিনটন যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসসহ ইসলামি জিহাদিদের অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন সে ব্যাপারে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

হিলারি ক্লিনটনের ফাঁস হওয়া ইমেইল থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডেমোক্র্যাসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন তিনি। অ্যাসাঞ্জের দাবি, লিবিয়ায় গাদ্দাফি সরকার ও পরবর্তীতে সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টায় অস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল; যা পরে ইসলামি জিহাদিদের হাতে পৌঁছেছে।

একের পর এক মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরিকারী গণমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জানিয়েছেন, হিলারির ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোর মধ্যে ১৭০০রও বেশি ইমেইলে লিবিয়া প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডুরানের প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র কাতারে চালানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর এ কাতার  মুসলিম ব্রাদারহুড এবং লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি বন্ধুসুলভ দেশ হিসেবে পরিচিত।

অ্যাসাঞ্জের দাবি, লিবিয়ার গাদ্দাফি সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টায় ওই অস্ত্র সরবরাহের অনুমতি দিয়েছিলেন হিলারি। পরে সে অস্ত্র আবার সিরিয়ার আসাদ সরকারকে উৎখাতের জন্য সেদেশে সরবরাহ করা হয়েছিল। মূলত এ অস্ত্রগুলো আল কায়েদা ও আইএসসহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর হাতে পৌঁছায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে আদান-প্রদান করা ৩০ হাজারেরও বেশি ইমেইল গত মার্চ মাসে ফাঁস করে উইকিলিকস। কেন উইকিলিকস হিলারির ইমেইল ফাঁস করেছে সে ব্যাপারে ডেমোক্র্যাসি নাউ এর পক্ষ থেকে অ্যাসাঞ্জের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

সেসময় তিনি দাবি করেন এর মধ্য দিয়ে যতটা না হিলারির ভূমিকাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে তার চেয়েও  বেশি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে চলে তা সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে সর্বনাশা হিসেবে উল্লেখ করে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘গাদ্দাফি সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে লিবিয়ার একটি বিশাল অংশজুড়ে আইএস এর উত্থান হয়েছিল। সেখান থেকে হিলারির অনুমোদনসাপেক্ষে সিরিয়ায় আইএসসহ অন্য জিহাদিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ হয়েছিল। আর এগুলো সেইসব ইমেইলে পাওয়া গেছে। আমরা হিলারি ক্লিনটনের যেসব ইমেইল ফাঁস করেছি তার মধ্যে ১৭০০রও বেশি ইমেইলে কেবল লিবিয়ার প্রসঙ্গেরই উল্লেখ আছে।’

বিভিন্ন সময়ে হিলারির বিরুদ্ধে আইএসকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠলেও বরাবরই তিনি তা অস্বীকার করেছেন।  বেনগাজিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ২০১৩ সালে সরকারিভাবে দেওয়া সাক্ষ্যে অস্ত্র চালানের ব্যাপারে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

মার্কিন সিনেটে হিলারি বলেছিলেন এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে অ্যাসাঞ্জ দাবি করেছেন, হিলারি নিজেই এ অস্ত্র চালানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর তারই প্রমাণ দিচ্ছে ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো।

এর আগে জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাট দলের কর্মীদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ১৯ হাজারেরও বেশি ই-মেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। সেসময় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্স যেন প্রার্থিতা না পান সে ব্যাপারে আগে থেকেই সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছিল ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটি। কীভাবে স্যান্ডার্সকে রুখে দিয়ে আরেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থিতা প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়ন নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে উঠে পড়ে লাগে তারা।

স্যান্ডার্সকে পরাজিত করার ছক কষতে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির নেতারা নিজেদের মধ্যে ইমেইল চালাচালি করতে থাকেন।সেখানে দেখা গেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কর্মকর্তারা স্যান্ডার্স ও তার সমর্থকদের নিয়ে বিদ্রুপ করছেন, ইহুদি ধর্মের প্রতি স্যান্ডার্সের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। অথচ এ কমিটিকে নিরপেক্ষ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ইমেইলগুলোর একটিতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীরা একে অপরের কাছে জানতে চাইছিলেন কিভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোটারদের চোখে বার্নি স্যান্ডার্সকে দুর্বল করে দিতে তার ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করা যায়। আরেকটি ইমেইলে দেখা গেছে, এক অ্যাটর্নি কমিটিকে পরামর্শ দিচ্ছেন কী করে স্যান্ডার্সের ক্যাম্পেইনে ওঠা অভিযোগ থেকে হিলারিকে রক্ষা করা যায়।

‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ আইএস এর ছদ্মরূপী নয়তো?

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে হামলা করতে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র হাতে গ্রেফতার হওয়া রিজওয়ানুল আহসান নাফিসের কথা মনে আছে? ‘আন্ডারকভার অপারেশন’ বা ‘স্টিং অপারেশন’ নামে পরিচিত ‘ছদ্মবেশী’ বা ‘ফাঁদ পাতা’র মতো প্রতারণামূলক পদ্ধতিতে এফবিআই তাকে গ্রেফতার করেছিলো। ফেডারেল রিজার্ভে হামলার জন্য তাকে ভূয়া বিস্ফোরক, মুঠোফোন ইত্যাদি ছিলো তাদেরই দেয়া। এর আগে আল-কায়েদার লোক সেজে তার সঙ্গে যাবতীয় তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি কার্য সেরেছিলো এফবিআই।

এছাড়া তারা আমিনি আল খালিফি নামে মরক্কোর এক নাগরিককে ঠিক একই কায়দায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গ্রেফতার করে। ২৯ বছর বয়সী ওই মুসলমান যুবককে তারা নকল আত্মঘাতী বিস্ফোরকসহ জামা (সুইসাইড ভেস্ট) ও অকেজো আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করেছিল। পরিকল্পনা ছিলো, ওই জামা পরে খালিফি নির্বিচারে গুলি চালিয়ে লোকজনকে হত্যা করবেন।

তার আগে ২০০৯ সালে নিউইয়র্কের রিভারডেল এলাকায় দুটি সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করার দায়ে চারজন কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরও হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা করা, অর্থ ও নকল বিস্ফোরক জোগান দিয়েছিল এফবিআই।

এসব ঘটনার মামলায় একজন বিচারক এফবিআইয়ের এই কর্মপদ্ধতিকে ‘ক্রিয়েটিং টেরোরিজম’ বা সন্ত্রাসবাদ তৈরি করা হিসেবে বর্ণনা করে এর সমালোচনা করেছিলেন।

গুলশানের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায়ও আমরা দেখেছি, ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ নামের ওয়েবসাইট জিম্মি অবস্থায় রেস্তোরার ভেতরের নিহত ২০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। এখন প্রশ্নের বিষয় হলো- তারা এগুলো কীভাবে পেয়েছে? তারা বলছে – হামলাকারীরা আইএস এর কাছে সেই ছবি পাঠানোর পর আইএস এগুলো প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে তারা তাদের সাইটে এগুলো প্রকাশ করেছে।

আর অপারেশন থান্ডারবোল্টের পরেও দেখা গেছে, ২০ জন জিম্মিকে সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। এখান থেকে একটা বিষয় প্রতীয়মান হয় যে, সরকার যতোই বলুক দেশে আইএস নাই, এই হামলা কিন্তু আইএস’ই করেছে!

শুরু থেকেই তথাকথিত আইএস এর নামে বাংলাদেশ বিরোধী আক্রমণের সব খবর প্রকাশ করছে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’। যদিও এটা বাংলাদেশের সরকার কিংবা সাধারণ মানুষ কারো কাছেই বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। এখন আবারো বলছি- এমনও হতে পারে যে, ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ কর্তৃপক্ষই হয়তো এফবিআই’র মতো আইএস এর নামে ছদ্মরুপি কেউ, যারা আইএস এর নামে বাংলাদেশে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মদদ দিচ্ছে। এফবিআই তাদের দেশে ‘স্টিং অপারেশন’ এর মাধ্যমে নকল আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হয়তো ধরে ফেলেন, কিন্তু অন্য দেশকে সাইজ করতে, বা আইএস এর সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে নিজেদের সেনা পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা যে আসল আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক তুলে দেন না তার নিশ্চয়তা কী?

এছাড়া আইএস এর বরাতে সাইট ইন্টেলিজেন্সে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিলে যাওয়া ফেসবুক আইডিগুলোর প্রোফাইল ঘাঁটলে দেখা যায়, এরা সবাই ‘উচ্চ শিক্ষিত’ ও তথাকথিত ধনী পরিবারের সন্তান। এদের প্রায় প্রত্যেকের আইডিতে সবশেষ স্ট্যাটাস ছিলো এ বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির দিকের। কয়েকজন খেলাধুলা ভালোবাসতো, ছিলো ফুটবল খেলা ও ট্রফি জেতার সেই ছবিও। একজন তো বলিউডের এক নায়িকার হাত ধরতে পেরে ছিলো আনন্দে আত্মহারা।

কিন্তু এই ছেলেদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালের শেষের দিকে এসে কেমন যেন বদলে গেছে ছেলেগুলো। অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত ‘নিব্রাস ইসলাম’ নামের একজনের আইডিতে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গুলশান-২ এর হোটেল ওয়েস্টিনসহ বেশ কয়েকটি নামী-দামী রেষ্টুরেন্টে ‘বন্ধু, স্বজনের ছবিসহ’ চেকইন দিয়েছে। এমনও হতে পারে, তখন থেকেই এ হামলার পরিকল্পনা, আর এজন্যই গুলশান-২ এর বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে যাওয়া।

ফেসবুকের সঙ্গে সরকারের একটা আপোষরফা হয়েছে যে, সরকার চাইলে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষের আইডি’র যাবতীয় তথ্য দেবে। এর আগেও তারা তথ্য দিয়েছে। তাই এতো বড় একটা সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে ধর্মের নামে করা সন্ত্রাসের শেকড় উপড়ে ফেলতে চায়, তবে অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত এই সন্ত্রাসীদের আইডিগুলোর লগইন অ্যাকসেস চাইতে পারে। আমার বিশ্বাস, ফেসবুকে তাদের মেসেজ অপশন দেখতে পারলে কারা তাদেরকে এই পথে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে, কারা এই হামলার মূল হোতা, ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ হলি আর্টিসান রেস্তোরার ভেতরের বিভৎস ছবি কোথায় পেলো, আইএসের নামে এদেশকে কারা অস্থিতিশীল করে দখল করতে চায় ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে। এছাড়া ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ যদি এর সঙ্গে জড়িত না হয়, তবে সেটাও প্রমাণিত হয়ে যাবে।

অবশ্য এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ও ব্রুকলিন থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন সন্দেহে ড্রাগ ডিলারের দুটি আইফোনের লক খোলার জন্য অ্যাপলকে অনুরোধ করেছিল মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এফবিআই। অনেক কাঠ, খড় পুড়িয়ে তারা আইফোনের লক খুলেছিলো।

সবশেষ কথা হলো- ২০ থেকে ২৫ বছরের যে যুবকদের এখন জীবনকে ভালোবাসার সময়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য তৈরি হওয়ার সময়, সেই যুবকরা কেনো অন্যের ফাঁদে পড়ে মানুষ খুনের নেশায় বুঁদ হচ্ছে, সেটা এখন দায়িত্বশীলদের নতুন করে ভাবতে হবে। এই ফাঁদে অন্তত: বাংলাদেশের আর কোনো যুবক যাতে পা না দেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে, নিজের পরিবারকে, আমাদের সবাইকে।

নিজের ছেলে কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, পড়ালেখা বা অন্য কোনো কারণে বিদেশে যাওয়ার পর তার কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেয়া ইত্যাদি বিষয় পরিবারকেই নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে তথ্য পেলে তবেই তাকে নজরদারিতে রেখে, কিংবা যথাযোগ্য কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর না হয় সেতো শেষ হবেই, সঙ্গে পরিবার, আর এই রাষ্ট্রকে নরক যন্ত্রণায় বিষিয়ে দিয়ে যাবে।

গুলশানে রেস্টুরেন্টে জিম্মিদের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করেছে আইএস

pic

রাজধানীর গুলশানের ‘হলি আর্টিসান বেকারি’ রেস্টুরেন্টে সৃষ্ট জিম্মিদের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করেছে  মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর স্বঘোষিত সংবাদ সংস্থা আমাক । তবে কোনও বিশ্বস্ত সূত্র ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টিলিজেন্স-এর খবরেও একই দাবি করা হয়েছে। এদিকে বিবিসির একজন সাংবাদিক টম ডনকিন তার টুইটার পোস্টে জানিয়েছেন, ইসলামিক স্টেটের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদসংস্থা আমাক-ই এইসব ছবি প্রকাশ করছে। ছবিগুলো ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে #Amaq লিখে সার্চ দিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন টুইটার ব্যবহারকারী ওই #Amaq সহ ওইসব ছবি পোস্ট করেছেন। তবে বিভৎস আর ভয়াবহ সেইসব ছবি গুলশান হামলারই কিনা, কোনও সূত্রেই তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের একটি রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ডিবির সহকারী (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহত হন। এছাড়া পুলিশসহ আহত হন অর্ধশত। ওই রেস্টুরেন্টের ভেতরে ২০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক এখনও জিম্মি হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। একই ভবনে ‘ও কিচেন’ নামে আরেকটি রেস্তোরাঁর আরও পাঁচজনকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রেকেছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিচালক (আইজিপি)।জিম্মিদের উদ্ধারে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কমান্ডো অভিযান শুরু হয়েছে । শনিবার সকাল ৭ টা ৩৮ মিনিটের সময় জঙ্গিদের টার্গেট করে কমান্ডো বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন সেনা বাহিনীর ঊর্ধতন কর্মকর্তারাও।

এর আগে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের চার বর্গ কিলোমিটার এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। গণমাধ্যমকর্মীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্টেুরেন্টের ভেতরে সন্ত্রাসীরা এখনও জিম্মি করে রেখেছে দেশি-বিদেশিদের নাগরিকদের।

এর মধ্যেই যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে হ্যান্ড মাইকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেনি। এদিকে, এই হামলার ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সাইট ইন্টিলিজেন্স। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, আইএস গুলশানে ২০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে হত্যার কথা জানিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স