A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > সারাদেশ > চাল-স্ক্রাপ-পাথরবাহী জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি
Mountain View

চাল-স্ক্রাপ-পাথরবাহী জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি

চাল, স্ক্রাপ, পাথর প্রভৃতি খোলা পণ্যবাহী জাহাজ আসার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের পণ্য জাহাজে খোলা অবস্থায় আসে বলে নামাতে কন্টেইনারবাহী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে।

বন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চাল আমদানি না হওয়ায় এ সংক্রান্তে কোনো জাহাজ আসেনি। অথচ ২০১৭ সালে শুধু চালবাহী জাহাজ এসেছে ২৫টি। অন্যদিকে ২০১৬ সালে স্ক্রাপবাহী জাহাজ এসেছিল ২৬টি। ২০১৭ সালে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজ এসেছে ১০টি বেশি অর্থাৎ ৩৬টি। ২০১৬ সালে স্ক্র্যাপ আমদানি হয়েছিল ৭ লাখ ২৭ হাজার টন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন।

২০১৬ সালে দেশে পাথর আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টন। ২০১৭ সালে ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার টন। পাথর নিয়ে ২০১৬ সালে ৪২টি জাহাজ এসেছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে পাথরবাহী জাহাজ এসেছে ১৩৫টি। অর্থাৎ ৯৩টি পাথরবাহী জাহাজ বেশি এসেছে। সব মিলিয়ে ২০১৭ সালে চাল, স্ক্রাপ, পাথর এই তিন পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে ১২৮টি। নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেক্ষেত্রেও জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে।

গত বছর দেশে বন্যার কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল না। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, সরকারি পর্যায়ে চালবাহী জাহাজ জেটিতে পৌঁছার পর তা খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত না হওয়ায় বহির্নোঙরে জাহাজ দাঁড়ানোর সময় তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তা ছাড়া সাধারণভাবে জাহাজে চাল আসে খোলা অবস্থায়। জেটিতে আসার পর শ্রমিকরা সেই চাল বস্তাবন্দি করে ট্রাকে উঠায়। বলা বাহুল্য, কাজটি সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে চট্টগ্রাম খালি ট্রাক পাওয়াও একটি সমস্যা। শুধু খালি ট্রাক না পাওয়ায় চাল খালাস বন্ধ থাকা বা ধীরে চলারও নজির রয়েছে। আর এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৃষ্টির কারণেও জেটিতে জাহাজ অবস্থানের সময় বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্ক্রাপ ও পাথর আমদানি অনেক বেড়ে গেছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে।

আমদানি পণ্যের প্রায় ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে প্রায়শই বলা হয়, পণ্যের আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় বছর শেষে দেখা যায়, তার চেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। একইভাবে পণ্য হ্যান্ডলিংও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও সে তুলনায় এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড ও টার্মিনাল নির্মাণ না হওয়ায় মূলত পূর্ববর্তী অবকাঠামো সুবিধা দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যদিও গত এক বছরের বেশ কিছু ইকুইপমেন্ট কেনা হয় এবং অনেকগুলোর চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এ ছাড়া টার্মিনাল নির্মাণের কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হতে ২/৩ বছর সময় লাগবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, বন্দর তার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক জেটি বা টার্মিনাল না থাকায় এবং নতুন করে কিছু পণ্যের আমদানি অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন সময় জাহাজ জট এবং অনেক সময় কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আয়েশা বেগম, বয়স ৩৫ …