A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > মতামত বিভাগে জনপ্রিয় কবি ফয়সাল হাবিব সানি’র লেখা
Mountain View

মতামত বিভাগে জনপ্রিয় কবি ফয়সাল হাবিব সানি’র লেখা

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসে মতামত বিভাগে অাজ লিখেছেন এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ কবি ফয়সাল হাবিব সানি। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার লেখা `সুন্দরী তাই, এজন্যই খ্যাতি পেলেন টুম্পা!’

অামরা বাঙালি, জাত বাঙালি। অামরা এমন একটা জাতি যে জাতি প্রতিভার মূল্যায়ন করে একটু ভিন্নভাবে। যেমনটি অনেকটা `দেশের ফকির দেশে ভিক্ষা পায় না’- প্রবাদটির ন্যায়। এমনটিই যেন ঘটেছে কিছুদিন অাগে দেশজুড়ে প্রবল অালোচিত `অপরাধী’ গানের শিল্পী অারমান অালিফের ভাগ্যে! গেলো ২৬ এপ্রিল ঈগল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিলো অঙ্কুর মাহমুদ ফিচারিং অারমান অালিফের `অপরাধী’ গানের ভিডিও ভার্সন। এই সঙ্গীতশিল্পী তার এ অালোচিত গান দিয়ে টেইলর সুইফটকেও পেছনে ফেলে দেন।

ফলশ্রুতিতে, অারমান অালিফের নাম সর্বজনশ্রুত হতে লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই অারমান অালিফের `অপরাধী’ গানটিই কাভার করে লাইমলাইটে চলে অাসেন টুম্পা খান নামের বেশ সুদর্শনা এক তরুণী। রাতারাতি জনপ্রিয়তায় অারমান অালিফকেই পেছনে ফেলে দেয় শুধুমাত্র তার গান কাভার করা এই তরুণী। সেই সাথে মিডিয়াও তার সুনামে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। অার হঠাৎ জ্বলে ধপ করে নিভে যাওয়া বাতির ক্ষণিক অালোর মতোই হারিয়ে যেতে থাকে অারমান অালিফের নাম! গানের প্রকৃত শিল্পীর কদর না করে বাঙালিরা কদর করলো মাত্র গানটি কাভার করা এক তরুণীকে। শুধু তরুণী নয়, বেশ সুদর্শনা তরুণী টুম্পা।

অার এইটাই কিন্তু মূলত হতে পারে এভাবে টুম্পার অাকস্মিক অাকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভের মোক্ষম অস্ত্র। হতেই পারে, টুম্পা একটু সুন্দর বলেই তার সৌন্দর্য্যেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে! প্রকৃতপক্ষে তার কাভার করা গানের কণ্ঠে কিন্তু নয়। এই গানটিই যদি কোনো পুরুষ তার সুললিত কণ্ঠে কাভার করতো কখনোই তা অনেক ভালো হলেও টুম্পার মতো একজন সুদর্শনার নারীর কাছে তা পরাজিত হতোই। অর্থাৎ, টুম্পার কাভার করা গানের কণ্ঠ মানুষকে যতোটা টেনেছে, একজন তরুণী হবার বিষয়টিই তাকে অারও মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। অামাদের মধ্যে এমন অনেক বাঙালি রয়েছেন যারা কর্মে নয়, নামে বিশ্বাসী।

তেমনি এক্ষেত্রেও শ্রোতারা টুম্পার কণ্ঠে নয়, সত্যিকার অর্থে টুম্পার চেহারাতেই মজেছে! অার এইটাই প্রকৃত সত্য বলে অামার কাছে মনে হয়। যদিও এইটা একদমই অামার ব্যক্তিগত মতামত। বাঙালিরা যে প্রতিভার অাড়ালের প্রকৃত প্রতিভাবান মানুষটিকে মূল্যয়ন করতে পারে না তার উদাহরণ অারমান অালিফ ও টুম্পার বিষয়টি থেকে অাবারও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতরই হয়ে ওঠে যেন। অারমান অালিফের অবদানই যেখানে মুখ্য, সেইখানে টুম্পার অবদানই প্রধান হয়ে দেখা দিলো বাঙালিদের কাছে। অাফসোস করে বলতে হয় কবিগুরুর ভাষায়-

`বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।’

কিংবা-

`শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,

রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।’

বিষয়টি অারও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অামরা বাংলাদেশের অন্যতম বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের বিষয়টিও অানতে পারি। যিনি জেএন ইসলাম নামে সমধিক পরিচিত এবং বিজ্ঞানীদের কাছে বাংলাদেশ জেএন ইসলামের দেশ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলো। জানা যায়, বিশ্বিবিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের রুমমেট, বন্ধু এবং সহকর্মী ছিলো এই জেএন ইসলাম। বাংলাদেশের এই প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। সেই সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, রিচার্ড ফাইনমেন, অর্মত্য সেন, প্রফেসর অাব্দুস সালাম, ফ্রেডরিক হয়েল প্রমুখ বিজ্ঞানী ছিলেন জেএন ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্টিফেন হকিংয়ের বিশ্বখ্যাত বই `অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম’- এর অাগেও লেখা হয় জেএন ইসলামের `দি অাল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ বইটি, যা প্রকৃত বিবেচনায় স্টিফেন হকিংয়ের বিশ্বখ্যাত বইটির তুলনায় কোনো অংশেই তুচ্ছ নয়।

কিন্তু অামরা বাঙালি কতোটুকু চিনি অামাদের দেশের গর্ব ও অহংকার বিশ্ববিখ্যাত এই বিজ্ঞানীকে! তার নামই বা জানি কয়জন! কিন্তু বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের নাম শুনিনি এমন শিক্ষিত বাঙালি খুব কমই অাছে। অামরাই অামাদের দেশের মিডিয়া ও পত্র-পত্রিকায় স্টিফেন হকিংয়ের গুণগান গেয়ে তাকে নিয়ে মাতামাতি করেছি সবচেয়ে বেশি। অার জেএন ইসলামের ক্ষেত্রে এদেশের মিডিয়া ও পত্র-পত্রিকাগুলো ছিলো অতি কৃপণ; তার পাশে দাঁড়িয়েছিলো যেন শুধু দায়সারাভাবে! যে দেশে প্রতিভা থাকতেও এভাবে প্রতিভার অবমূল্যায়ণ করা হয়, সেই দেশ এগিয়ে যাবে কীভাবে! অামাদের অাগে অামাদেরকেই চিনতে হবে- তবেই তো অামরা বিশ্বকে চিনতে পারব, বিশ্বও অামাদের চিনবে, তাই নয় কি?

অাবার অামাদের দেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিষয়টিও বেশ দ্বিধাপূর্ণ। অামরা জানি, বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বামপন্থী বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মও কিন্তু বাংলাদেশে না। তারা জন্মেছিলেন ভারতে। ভারতের চুরুলিয়াতে জন্মেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু তিনিই অাজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি! কবি সুকান্তকে নিয়ে এতো তোলপাড়, কিন্তু শুধুমাত্র তার পৈতৃক নিবাস ছিলো বাংলাদেশ। তাহলে কাদের নিয়ে অামরা এতো ঢাক-ঢোল পিটাচ্ছি! অামাদের দেশে ছিলেন মহাকবি মধুসূদন, মহাকবি কায়কোবাদ, পল্লীকবি জসীমউদদীন, মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি অাবদুল হাকিম, কবি ফররুখ অাহমদ, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য অামরা এদেরকে বাদ দিয়ে অামাদের মিডিয়া, পুস্তক ও পত্রিকাগুলোতে বেশি ঢাক-ঢোল পিটিয়েছি নজরুল, সুকান্তেরই। কিংবা এখনও প্রথিতযশা কোনো কবি-সাহিত্যিকের সন্ধানও পেতে পারতো এদেশ। তবে সুযোগ ও প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত মাধ্যমের কৃপণতায় অনেক প্রতিভায় তমসাচ্ছাদিত তমসায় বিলীন হয়ে যায়, ঝরে যায় ভোরের বৃক্ষপত্রের ন্যয়! হায়রে, বাঙালি! নিজের দেশের প্রতিভাকে চিনলি না অাজও! পর ধন লোভেই মত্ত থাকলি অাজীবন!

এখানে নিচের দুইটি উদাহরণ নিয়ে অাসার প্রধান কারণই ছিলো, অারমান অালিফ ও টুম্পার জনপ্রিয়তার বিষয়টিকে অারও বেশি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। অারমান অালিফও যেন বাঙালিদের কাছে এভাবেই টুম্পার জনপ্রিয়তার অাড়ালে হারিয়ে গেছে! কিন্তু এই জনপ্রিয়তার সবটুকুই জুটবার কথা ছিলো অারমান অালিফের ভাগ্যেই। কিন্তু তা অার হলো না। টুম্পার মেয়েলি সৌন্দর্য্যেই যেন মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে গেলো অারমান অালিফের নাম! সত্যিই বাঙালি যথাযথ প্রতিভার মূল্যায়ণ করতে জানে না, তাইতো প্রতিভাগত দিক থেকে এদেশ অাজও এগিয়ে চলেছে মন্থর গতিতে; অাজও অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতির সাথে তাল মিলাতে ব্যর্থ প্রিয় লাল সবুজের এই ভূখণ্ড!

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View

Check Also

টেস্টে টাইগারদের ব্যর্থতার এই তাহলে আসল কারণ!

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ গত এক দশকে এ যেন এক প্রতিষ্ঠিত প্রবাদ- টেস্টের বিড়াল …