A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > কোটা সমাচার ও দুর্ভাগা আমিঃ শামসুজ্জামান মাসুদ
Mountain View

কোটা সমাচার ও দুর্ভাগা আমিঃ শামসুজ্জামান মাসুদ

প্রথমত, আমি দুর্ভাগা যে আমি নারী নই। এজন্য নারী কোটার ১০ শতাংশের সুবিধাভোগী আমি নই। আমি প্রতিবন্ধী নই তাই এর সুবিধাভোগী নই। আমি উপজাতীও নই তাই এর সুবিধাভোগীও নই।

বাকী থাকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার শতাংশ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমি বিনীতভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই।দেশমাতৃকার স্বাধিকার আদায়ের জন্য তাদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা বাঙালির নেই এবং হবেও না কখনো।
কিন্তু কিছু কথা থেকে যায়…

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবার বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। সহজেই অনুমেয় যে এতটুকু নাদান শিশুর পক্ষে যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। গ্রামে মিলিটারি আসলে তার বাবা তাকে কোলে নিয়ে বাগানের ঝোপে পালিয়েছিল এতটুকুই তার যুদ্ধের স্মৃতি। আর মায়ের তো জন্মই হয়নি তখনো। তাই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান হতে পারিনি।

এবার আসি তার আগের প্রজন্মের কথায়।আমার দাদা ছিল দরিদ্র কৃষক।দিন এনে দিন খেত।আধসের আটা দিয়ে তার পরিবারের একদিনের জীবিকা নির্বাহ হত।একদিন কাজ না করলে তার পুরো পরিবারকে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হত।ক্ষুধাতুর পেট নিয়ে পুরো পরিবারকে বিপদে ফেলে যুদ্ধে যাওয়ার সাহস সে দেখাতে পারেনি।

যুদ্ধের সময় নানা ছিল উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র।যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনী শরণার্থীদের কাছ থেকে সব লুটপাট করে নিত।নানা মাঝেমধ্যে শরণার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।কিন্তু সরাসরি সমর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
এজন্য আমি একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধার নাতী হতে পারিনি। এজন্য দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পড়াশোনা শেষ করেও আমাকে সময় অতিবাহিত করতে হয় চরম হতাশায়।কোটা নামের ভয়াল থাবা গ্রাস করে নিচ্ছে আমার স্বপ্নের পুরোটা।

বাবার যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিলনা তাহলে ধরে নিতে হবে আমার দাদা-নানা যুদ্ধে না গিয়ে যে ভুল করেছে তার খেসারত বাবা দিয়েছে আর এখন আমি দিয়ে চলছি প্রতিনিয়ত। আর কত প্রজন্মকে এর খেসারত দিয়ে যেতে হবে কেউ কি বলতে পারেন?? বলতে পারবেন আমার বাবার কি ভুল ছিল? বলতে পারবেন আমার ভুল কোথায়?

আমি বলছি। আমি দুর্ভাগা কারণ আমি নারী নই, আমি দুর্ভাগা কারণ আমি উপজাতি নই,আমি দুর্ভাগা কারণ আমি প্রতিবন্ধী নই, সবথেকে বড় দুর্ভাগা আমি মুক্তিযোদ্ধার বংশধর নই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের সম অধিকারের কথা বলা আছে।
পাশাপাশি অন্য একটি অনুচ্ছেদে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর করার জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।কিন্তু সেই সুবিধা দেওয়ার একমাত্র উপায় কি সরকারি চাকুরিতে কোটা প্রথা??
আমার ব্যক্তিগত অভিপ্রায় হল- মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরদর্পে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হোক। তাদের প্রেষণা বৃদ্ধি করে তাদের পরিবারবর্গকে অগ্রসর করার ব্যবস্থা করা হোক। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সবরকমের সুবিধা দেওয়া হোক কিন্তু আমার যোগ্যতাকে বঞ্চিত করে নয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটি নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলেও করতে পারেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

একটি মেয়ের গ্রেটেস্ট এ্যাসেট অবশ্যই তার মেধা, বিউটি নয়!

রোমানা আক্তার (শুদ্ধবালিকা): তবেতো পারসোনার মালিক যেই ভদ্র মহিলা সেই সবার আগে এই লাইনের জাতাতলে …