A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > হতাশার ম্যাচে আজ লজ্জার রেকর্ড
Mountain View

হতাশার ম্যাচে আজ লজ্জার রেকর্ড

সিলেটের মাটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারলো না স্বাগতিক বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচে রোববার শ্রীলংকার কাছে ৭৫ রানে হেরেছে টাইগাররা। লংকানদের কাছে এই ফরম্যাটে এটিই বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হার। এই হারে দুই ম্যাচের সিরিজও ২-০ ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ। এর আগে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলংকার কাছে ৭৯ রানে হেরে রানার-আপ হয়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রীলংকার কাছে ১-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ দিয়েই অভিষেক ঘটে বাংলাদেশের। এ ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ হলেও এই প্রথমবার খেলার সুযোগ পেল টাইগারা। সিলেটে নিজ দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে আসা গ্যালারি ভরা দর্শক ফিরেছে হতাশা নিয়ে।

নিজেদের অভিষেক ম্যাচে দুই নতুন মুখ নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ টস ভাগ্যে জয় পায়। সিরিজ হার বাঁচানোর লক্ষ্যে প্রথমে ফিল্ডিং-এ নামে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং-এ নেমেই বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধুনো করতে থাকেন শ্রীলংকার দুই ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস।

পাওয়ার প্লে’র প্রথম ৬ ওভারেই ৬৩ রান দলকে এনে দেন গুনাথিলাকা ও মেন্ডিস। তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্য অব্যাহত থাকায় ১০ ওভার শেষে দল পায় ৯১ রান। এসময় গুনাথিলাকা ৩৭ ও মেন্ডিস ৪৯ রানে দাড়িয়ে ছিলেন। পরের ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে মেন্ডিস ফিফটির স্বাদ পেলেও, শেষ বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেন গুনাথিলাকা। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৪২ রান করেন তিনি। ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন ওপেনার সৌম্য সরকার। পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় উইকেট।

প্রথম উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন মেন্ডিস ও থিসারা পেরেরা। ৩১ রান করা পেরেরাকে শিকার করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পেসার আবু জায়েদ। পেরেরার বিদায়ের কিছুক্ষণ থামেন মেন্ডিসও। টি-২০ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া মেন্ডিস করেন ৭০ রান। মেন্ডিসের বিদায় ঘটান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।
মেন্ডিস যখন বিদায় নেন ততক্ষণে দেড়শ’ ছাড়িয়ে গেছে শ্রীলংকার স্কোর।

বড় স্কোর পথ পেয়ে সেটি কাজে লাগান শ্রীলংকার দুই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা ও দাসুন শানাকা। ছোট ছোট দু’টি ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১০ রানে পৌঁছে দেন থারাঙ্গা ও শানাকা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলংকার এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

থারাঙ্গা ১৩ বলে ২৫ রান করে ফিরলেও শানাকা ১১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল ২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সৌম্য সরকার।

জয়ের জন্য ২১১ রানের টার্গেটে শুরু থেকেই যাওয়া আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। স্কোর বোর্ডে ২২ রান উঠতেই ৩ বাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফিরেন। শুরুতেই যারা উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন তাদের কেউই দু’অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ওপেনার সৌম্য সরকার শূন্য, মুশফিকুর রহিম ৬ ও মোহাম্মদ মিথুন ৫ রান করে আউট হন।

শুরুর ধাক্কা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। দেখেশুনে খেলে ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তামিম-মাহমুদুল্লাহ জুটি। ২টি চার ও এক ছক্কায় ২৩ বলে ২৯ রান করা তামিমকে শিকার বানান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ-হাতি স্পিনার আমিলা আপোনসো।

তামিমের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে নেমে দ্রুতই বিদায় নেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বেশ কয়েকটি ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলা আরিফুল হক। মাত্র ২ রান করেন তিনি। ৬৮ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সাথে ৪২ রান যোগ করে বাংলাদেশের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দেন মাহমুদুল্লাহ।

দলের স্কোর শতরানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর প্যাভিলিয়নে জায়গা করে নেন রান আউটের শিকার হওয়া মাহমুদুল্লাহ। ৩১ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন তিনি। তার ৩১ বলের ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারি ছিলো।
দলীয় ১১০ রানে মাহমুদুল্লাহ’র বিদায়ের পর বাকি ৪ উইকেট পতন হতে খুব বেশি সময়ক্ষেপণ হয়নি বাংলাদেশের।

আরও ২৫ রান যোগ করে ১৩৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। লোয়ার-অর্ডারে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ২০, মেহেদি ১১, মুস্তাফিজুর ৮, আবু জায়েদ ২ রানে আউট হন। ১ রানে অপরাজিত থাকেন দলের পক্ষে মিতব্যয়ী বোলিং করার নাজমুল ইসলাম অপু। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়েছিলেন তিনি। শ্রীলংকার পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মাদুশানাকা ও গুনাথিলাকা। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন শ্রীলংকার মেন্ডিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলংকা : ২১০/৪, ২০ ওভার (মেন্ডিস ৭০, গুনাথিলাকা ৪২, সৌম্য ১/২৫)।
বাংলাদেশ : ১৩৫/১০, ১৮.৪ ওভার (মাহমুদুল্লাহ ৪১, তামিম ২৯, গুনাথিলাকা ২/৩)।
ফল : শ্রীলংকা ৭৫ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : কুশল মেন্ডিস (শ্রীলংকা)।
সিরিজ সেরা : কুশল মেন্ডিস (শ্রীলংকা)।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতল শ্রীলংকা।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

নিষিদ্ধ চান্দিমালের স্থলাভিষিক্ত হলেন লাকমল

আজ দিবাগত রাত থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কা দলকে নেতৃত্ব …