A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > জাতীয় > পিলখানা ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্তি: নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা, স্বজনদের হতাশা
Mountain View

পিলখানা ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্তি: নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা, স্বজনদের হতাশা

বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা। পিলখানা ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্তিতে আজ (রোববার) সকাল ৯টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নিহতদের কবরে প্রথমেই প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া, শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিহতদের প্রতি স্যালুট প্রদান করেন। পরে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।এরপর শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তবে, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, পিলখানা ট্র্যাজেডির একটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঝুলে থাকা বিস্ফোরক মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া আইনানুযায়ী এ বছরই সম্পন্ন হবে।

রোববার বনানীর সামরিক কবরস্থানে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নিহতদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়াও রোববার সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। বিডিআর থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব কমানো, বেতন বৈষম্য কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ করেন বিডিআর জওয়ানরা। এতে নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে রায় দেয়া হয় এ ঘটনায় করা মামলার। সাজা পান দোষী ব্যক্তিরা।

রক্তাক্ত এ ঘটনার পর বাহিনীর নিজস্ব আদালতে বিদ্রোহের অভিযোগে করা মামলাগুলোর বিচার হয়। হত্যার মামলা চলে ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান। মামলার সাড়ে আটশ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত। এ ছাড়া ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়। একই সঙ্গে অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এ ছাড়া ২৫৬ আসামির ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। আর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ না হওয়ায় বেকসুর খালাস পান ২৭৭ জন। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত ২৩ আসামি এখনো পলাতক।ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণার প্রায় ১৩ মাস পর আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আসে। এ বছরের ৪ জানুয়ারি রাতে ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।

এর পর গত ১৮ জানুয়ারি থেকে চলছে হত্যা মামলায় দায়ের করা সব ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উচ্চ আদালতে এ মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View    Mountain View

Check Also

দুই দিনে সড়কে ঝরলো ৩২ প্রাণ!

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামার নয়। ঈদের ছুটির রোববার ও সোমবার দুই দিনে সারাদেশের সড়ক …