বৃহস্পতিবার , মে ২৪ ২০১৮, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ধার কমে যাওয়ার ৪ কারণ
Mountain View

মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ধার কমে যাওয়ার ৪ কারণ

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আইসিসির সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতা মোস্তাফিজের বোলিংয়ে সেই ঝাঁজ আর নেই। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর থেকে পরের বছর আইপিএল। মাত্র ১২ মাসের ঝলক। এর পর থেকেই বোলিংয়ে ধার ক্রমাগতভাবে কমেই যাচ্ছে। কেন পারছেন না মোস্তাফিজুর রহমান? কোটি টাইগার সমর্থকের প্রশ্ন একটাই। যেই মোস্তাফিজ বল হাতে নিলেই টাইগার সমর্থকরা আস্থা খুঁজে পেতেন সেই মোস্তাফিজ যেন এখন একেবারে সাদামাটা একজন বোলার। বোলিংয়ে ধারতো নেই ঠিকমত কাজ করছে না কাটার আর  ইয়র্কারগুলোও। কেন এমন হলো? কেন এই ছন্দ পতন। বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস এর খেলাধুলা বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে ৪ টি কারণ-

প্রথমত, বিশ্বে আজ অবদি কোন বোলারই কোন একটি বিশেষ অস্ত্র দিয়ে বিশ্ব শাষণ করতে পারেন নি। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ অজন্তা মেন্ডিস। মোস্তাফিজও অনেকটা ওরকমই। খুব বেশি কাটার নির্ভর। তাই তার কাটারগুলো ব্যাটসম্যানরা পড়ে ফেলতে পেরেছে বলেই তার বলে আগের মত উইকেট পড়ছে না। তার অন্য ডেলিভারী গুলো একেবারেই সাদামাটা। যেগুলোতে ব্যাটসম্যানরা আরামছে বাউন্ডারী আদায় করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, কোচের ভুমিকা। মোস্তাফিজ যখন জাতীয় দলে আসেন কোচ ছিলেন হিথ স্ট্রিক। যিনি এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলার ছিলেন না তবে খুব কার্যকর মিডিয়াম পেস বোলার ছিলেন। গতির চেয়ে সুইং, স্লোয়ার, ইয়র্কার এই কাজগুলোতে হিথ স্ট্রিকের কোন তুলনা ছিলো না। তিনি চলে যাওয়ার পর গতি দানব কোর্টনি ওয়ালশ আসেন। এর পর থেকেই বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারদের দরদূশা শুরু হয়। কারণ বাংলাদেশে কেউই ৯০ মাইল গতিতে বল করেন না। কিংবা গতি আর বাউন্স দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেয়ার মত না। ওয়ালশের শক্তির জায়গা ছিলো এসবই। যে কারণে মনস্তাত্বিকভাবে তার শিষ্যদের গতিময় বোলার বানানোর চেষ্টা করেন – আর তাতেই ছন্দ পতন।

তৃতীয়ত, ইনজুরি। ক্যারিয়ার শুরু হতে না হতেই এক বছরের মাথায় ইনজুরিতে পরে মোস্তহাফিজের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে গেছে। সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে একটু সময় লাগবে।

Image result for Mustafizur rahman

চতুর্থ, একটা সময় মোস্তাফিজ কাটার ছাড়াও আরও একটা শক্তির জায়গা ছিলো। সেটা হলো ইয়র্কার। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সময় এমনও হতো সে ওভারে ৪ থেকে ৫ টা ইয়র্কারও করতে পারত। কিন্তু শক্তির সেই জায়গাটাও নরবড়ে হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা অাগে থেকেই পড়ে ফেলতে পারছেন হয় কাটার আসবে নয়ত তো সাধারণ বল আসবে। এইখানে আরও কিছু যোগ করতে হবে। স্লোয়ার, নাকাল বল, ইয়র্কার, ইনসুয়িং, আইট সুইং এবং রিভার্স সুইং। এই সবগুলো অস্ত্র যদি আয়ত্বে আনতে পারে তাহলে যতদিন খেলবেন ততদিনই রাজত্ব করে যেতে পারবেন।

Image result for Mustafizur rahman

গ্রেট ফাস্ট বোলাররাও এরকমই বৈচিত্রময় বোলিং করতেন। ওয়াসিম, ওয়াকার, চামিন্দা ভাস সবাই ছিলেন বৈচিত্রময় ফাস্ট বোলার। শুধূ কাটার দিয়ে আসলে মিডার্নডে ক্রিকেটে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই মোস্তাফিজকে শিখতে হবে আরও। সেজন্য হিথ স্ট্রিক, ওয়াসিম আকরাম কিংবা চামিন্দা ভাসের মত গুরু পেলে ভালো হয়্ ২ বছরেও যেহেতেু ওয়ালশ আমাদের ফাস্ট বোলারদেরকে কিছু শেখাতে পারেন নি তাকে আরও সময় দেয়াটা হবে বোকামি।

উপমহাদেশের ফাস্ট বোলারদের সামর্থ্য বোঝতে পারে এমন কাউকেই বোলিং কোচ করা উচিৎ। শুধু নাম আর ক্যারিয়ার দেখে কাউকে কোচ করলে তো হবে না।

Related image

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

১৭ মে : প্রলয়ের বদ্বীপে বঙ্গবন্ধুকন্যার সৃজনের সংগ্রাম

‘আমাদের সকল ভরসার স্থল জাতির জনক আজ নেই। জনতার মুক্তির দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনাপর্বে তিনি বুকের …