বৃহস্পতিবার , মে ২৪ ২০১৮, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > কোটার কাঁচকলায় কামড়ের কাজিয়া
Mountain View

কোটার কাঁচকলায় কামড়ের কাজিয়া

আল আমীন সুজন, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ

সফলতার জন্য আমি তোমাকে চাই, স্বার্থকতার জন্যও তোমাকেই চাই। তোমাকে চাই আমি আমার জন্য, আমার প্রাণের শান্তির জন্য, আমার প্রাণের অস্তিত্বের জন্য, আমার স্বপ্নের জন্য, একরাশ স্বপ্নের পেছনে ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের জন্য, আমার পরিবারের জন্য;তোমাকে পাবার জন্য আমার চাওয়ার অন্ত নেই…

না, আমার কোন কোটা নাই, নেই আমার মেধার অঢেল মজুদ। শুধুমাত্র ডিগ্রী আছে দুই-একটা। আর নিজেকে কোটার আওতায় আনতে গেলে আইন প্রণয়ন করতে হবে একগাদা। প্রথমত, আমি কালো; এটা যদি কোটার আইন হয় তবে আমি সুযোগ পাবো। দ্বিতীয়ত, আমি একজন বাঁহাতি। এটা যদি কোনকালে কোটা হয়; তবেই কপালে কিছু কৃতী জুটতে পারে— তাছাড়া নয়!

মানুষকে চাইতেই হয়; বিধাতার নিকট, সরকারের নিকট, মা-বাবার নিকট, শিক্ষকদের নিকট। হোক তা আত্মীয়স্বজন, কাছের বন্ধুবান্ধব কিংবা অন্য কারও কাছে— প্রার্থনায়, প্রয়োজনে, বৈষম্যে, ব্যথায় কিংবা বাসনায়।
সবরকম চাওয়ার নিয়ম-রীতি রয়েছে, রয়েছে স্থান-কাল ও যথার্থ কার্যকারণ।
তেমনি দেবারও রয়েছে কিছু পদ্ধতি, প্রদেয় সীমাবদ্ধতা।

সন্তানদের শাসন করার; প্রয়োজনে শরীরে হাত তুলে বুঝিয়ে দেবার অধিকার রয়েছে কেবল অভিভাবকের কিংবা অভিভাবকতুল্য শ্রদ্ধেয় আপনজনের।
পরিবার ছেড়ে আমাদের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান যাঁর তত্ত্বাবধানে তিনি আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত উপাচার্য স্যার। আর নিরাপত্তায় আমাদের জন্য আছেন— বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর।

বাবার উপস্থিতিতে যদি অন্য কেউ এসে তাঁর কোন সন্তানকে শাসন করেন তখন সন্তান হয়ে ওঠে বেয়াড়া ও সেই সাথে সন্তান প্রতিহত করতে উদ্যত হয় সেই আঘাতকে এবং একইসাথে বাবাকেও প্রশ্নের মুখোমুখী দাঁড় করাতে চায়— ‘তুমি বাড়ির কেমন কর্তা, তোমার উপস্থিতিতে অন্য কেউ আমাকে শাসন করবে?’

আমরা হরহামেশাই বাবার কাছে টাকা চাই, পুরোতে বলি নানান আবদার! বাবা কখনো পারেন, কখনো পারেন না। পারলেও সময় মতো না-হলেও ঠিকই কিন্তু পরে দেন। তাই বলে কী বাবাকে কখনো আমরা বলেছি, “হারামজাদা টাকা দিস না কেন, টাকা দে জলদি!”
যেমনটা দেখে ইতস্তত হয়েছিলাম, এই আমার ক্যাম্পাসে ‘ডাকসু’র দাবিতে দেয়ালে-দেয়ালে মনের খেয়ালে লেখাতে…

আবার একটি বাড়ির সবাই যখন যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে হাজির হয় অভিভাবকের সামনে তখন কিন্তু তিনিও বাঁশের কঞ্চি সমেত নিজের অভিভাবকত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করবেন; সেটাই স্বাভাবিক নয় কী?

যদিও উপমা হিসেবে প্রকাশ করছি তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ছাত্র-প্রশাসন তান্ডবে পিতার ভূমিকাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবো। কেননা, এতটা নিষ্ঠুর না-হলেই কী হতো না?

পুলিশ জনগণের বন্ধু, সাধারণ জনতার নিরাপত্তার নিশ্চয়তাজ্ঞাপক। কিন্তু এমন করে আঘাত করাটা বর্বরতার পরিচায়ক। আজ কী কোন পুলিশ সদস্যের সন্তানও আহত হননি, কোন পুলিশ সদস্যের সন্তান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে যাননি। অবশ্যই গিয়েছিলেন।

বাড়ির কারো কাছে খুব বেশি শাসনের শিকার হলে সেই ছোট্টতে মায়ের কাছেই যেতাম আমরা। সন্তানের দাবি কখনো মা ফেলতে পারেন না। ‘মা’ কখনো সন্তানকে ফিরিয়ে দেন না। মা বৈষম্য করেন না কোন সময়।
তবুও মায়ের ত্যাগকে আমরা অনেকক্ষেত্রে ভুল বুঝি, ভুল খুঁজে ‘মা’কেও স্বার্থপর ভাবতে শুরু করি। বুঝতে চেষ্টা করি না— মা কোন বেদনায় নীল; মা কতবড় সংসার সামলান একা-একা। মায়েরও তো ভুল হতে পারে।
ভুল বোঝার কারণে, মিথ্যা অপবাদের উপস্থাপনে বাহুবলী সিনেমাতে ‘রাজমাতা’ যে কতবড় ত্যাগ স্বীকার করে ভুল করেছিলেন আমরা দেখেছি, অকপটে চোখের অশ্রুও অনেকে ঝরিয়েছি!
সন্তান হয়ে আমরা মায়ের কাছে কী একবারও চাওয়ার মতো করে চেয়েছি?

সেই ছোট্টবেলায় দেখেছিলাম, ‘মিনা কার্টুন’-এ মিনার মা, তার অনুজ রাজুকে বেশি খেতে দিতেন কিন্তু তাকে দিতেন কম খাবার। মা যখন উপলদ্ধি করতে পারলেন তখন কিন্তু তিনি আর বৈষম্য করেননি। তাই বলে মিনা কখনোই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ প্রদর্শন করেনি বরং ধৈর্য ধরেছে, মেধার পরিচয় দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেলি সব কাজেই।

আমরা হুট করে ঘরে এসে হাত-মুখ না-ধুয়েঁই বারংবার উচ্চঃস্বরে উদ্যত হয়ে মাকে যদি বলে বসি, ‘তাড়াতাড়ি ভাত দাও, ক্ষুধা লাগছে; কই দিচ্ছো না কেন?’
এক পর্যায়ে মা কিন্তু বিরক্ত হয়ে ভাতের থালা না এনে লাকড়ী হাতে ছুটে এসে বলবেন, ”কী করছিস! এত খেতে চাস? সময় তো দিবি— রান্নার, ঘর গোছাবার!”
হ্যাঁ, মাকে বোঝাতে হবে স্থির হয়ে শান্ত-স্বরে যে, ‘আমি কোন-কোন কারণে ক্লান্ত, কী কী করছি, কেন এত ক্ষুধা পেটের প্রলাপ বকাচ্ছে…

এ প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তের ঋণ আমাদের অজানা নয়, অজানা নেই দুষ্টের নস্যাৎ-রীতির ইতিহাস। এখনো চোখে ভাসে সেই দিনগুলো। আমিও ব্যাধির মতোই লালন করবো হয়তো সারাটাজীবন এই রাতের স্মৃতিকে। তবুও নিজেকে ছোট করবো না, ভাববো না পরাজিত। এ তো সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নেয়া ন্যায্য দাবি মাত্র। কোন সরকারবিরোধী আন্দোলন নয় কিংবা তা ছিলও না।

মমতাময়ী জননী আজ শুনবেন, বিশ্লেষণ করে দেখবেন। আমাদের সমাধান দেবেন। তিনিও তো মানুষ। সন্তানদের যেনো কষ্ট না-হয়, কেউ যেনো বঞ্চিত না-হয়, স্বাধীন দেশে কেউ যেনো বৈষম্যের রোষানলে বিদ্ধ হয়ে বিলীন না-হয়;
তিনিও তো আমাদের জন্য, আমাদের শান্তি আর সুখের জন্যই পিতাকে হারিয়েছেন। বিসর্জন দিয়েছেন কত শোক-অশ্রু…

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

১৭ মে : প্রলয়ের বদ্বীপে বঙ্গবন্ধুকন্যার সৃজনের সংগ্রাম

‘আমাদের সকল ভরসার স্থল জাতির জনক আজ নেই। জনতার মুক্তির দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনাপর্বে তিনি বুকের …