A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > কোটার সহজিয়া আলাপন
Mountain View

কোটার সহজিয়া আলাপন

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে দুটি বিষয়ে নজর দিতে হয় তা হল, সমতা (Equality) এবং ন্যায্যতা (Equity)।এ দুটি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট থাকবে।

সমতা(Equality) ও ন্যায্যতা (Equity) ধারনাটি অনেকের কাছে সমার্থক আবার অনেকের কাছে অস্পষ্ট, যদিওবা তা আপাতঃ দৃষ্টিতে খুবই সহজ মনে হয়।বিষয়টা ক্লিয়ার করলে ভালো হয়।

সমতা (Equality): সমতা হচ্ছে এমন একটি ধারনা যেখানে একটি দেশের সকল নাগরিক সমান ভাবে মূল্যায়িত হবেন। ধরি, একটি দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ লাখ টাকা আছে।ঐ দেশের নাগরিক যদি ১০ জন হয়, আর রাষ্ট্র যদি সিদ্ধান্ত দেয় টাকাটা নাগরিকদের মাঝে বণ্টন করবে, তাহলে সমতা(Equality) বিধানে প্রত্যেক নাগরিক সমানুপাতে ১০ হাজার (১ লাখ/১০ জন)করে টাকা পাবে।

ন্যায্যতা(Equity): ন্যায্যতা হচ্ছে এমন একটি ধারণা যেখানে একটি দেশের নাগরিক যে যতটুকু প্রাপ্য তা তাকে বুঝিয়ে দেয়া/সুযোগ দেয়া।ধরি, একটি দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ লাখ টাকা আছে।ঐ দেশের নাগরিক যদি ১০ জন হয়, আর রাষ্ট্র যদি সিদ্ধান্ত দেয় টাকাটা নাগরিকদের মাঝে বণ্টন করবে, তাহলে ন্যায্যতা(Equity) বিধানে প্রত্যেক নাগরিক সমানুপাত ১০ হাজার (১ লাখ/১০ জন)করে টাকা পাবে না। এখানে রাষ্ট্র মূল্যায়ন করবে, প্রত্যেক নাগরিকের স্ব স্ব আর্থিক অবস্থান। আর্থিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তা বন্টিত হবে। যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে, তাদেরকে অপেক্ষাকৃত বেশি আর যারা অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় আছে,তাদেরকে কম টাকা দেয়া হবে।

এ দুটি বিধান করতে গিয়ে রাষ্ট্র আবার দুটি অবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। একটা হচ্ছে ‘Discrimination(বৈশম্য)’ আরেকটি হচ্ছে ‘Reverse Discrimination'(পাল্টা বৈশম্য)। আমি যখন মাস্টার্সে আমি ‘Diversity Management’ নামে একটি কোর্স অধ্যয়ন করেছিলাম। ওখান থেকে এ বিষয় দুটি সম্পর্কিত স্পষ্ট ধারণা লাভ করি।
এখন উপরোক্ত আলোচনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের আলোচিত কোটা সিস্টেম নিয়ে।
কোটা প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসতে এবং তারা যাতে Discrimination-এর স্বীকার না হয়।

কিন্তু তাদেরকে এগিয়ে আনতে যাদেরকে পিছিয়ে দেয়া হয়, তারা আবার Discrimination এর স্বীকার হচ্ছে, যাকে বলা হয়, Reverse Discrimination।

তাই, কোটা সিস্টেম যদি সম্পূর্ণ তুলে দেয়া হয় (যদিবা বিকল্প ব্যবস্থার কথা এসেছে) তাহলে একটা শ্রেণী Discrimination-এর স্বীকার হবে, রাষ্ট্রীয় Equity সিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

আবার, বিদ্যমান কোটা সিস্টেম(৫৬%) ‘Reverse Discrimination’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। যা সরকারের Equity বা Equality বিধানে বাধা দিচ্ছে।

তাই, Equality ও Equity বিধান করতে এবং Discrimination ও Reverse Discrimination বিষয়ের উপর সুচারু নজর দিয়ে সরকারের উচিৎ এই কোটা সিস্টেম বাতিল নয় বরং একটি যৌক্তিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া।

উপরোক্ত বিষয়াবলীর পাশাপাশি আরো কিছু সরকারের মাথায় রাখা উচিৎ।কারন এটার সাথে কিছু আবেগ জড়িত। কোটা বাতিল হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর কিছুটা(!) আঘাত আসবে। আমি মনে করি যারা এই আন্দোলন করেছে তারা সবাই এই দেশের তারুণ্য, আর এদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধকে লালন করে ও শ্রদ্ধা করে।আবার, ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক কারনে পাহাড়িদের একটি দাবি থাকেই। প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সামান্য সুযোগটাও আবেগের।তাই, কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা মোটেও সমীচীন হবে না।

আবার, সংস্কার না হলে তারুণ্যের যে স্বপ্ন ও মেধার বিনিয়োগ আছে তাকেও অস্বীকার করা হবে।

তাই, সংবিধান, বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কোটা সিস্টেম সবসময় পর্যালোচনা করতে হবে,যাতে এটা সময়েই সময় উপযোগী থাকে।তাই, বাতিল তো নায়ই এর সংস্কারই হবে আমাদের সময়ের কাজ।

ফখরুল ইসলাম হিমেল
সহকারী অধ্যাপক
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

১৭ মে : প্রলয়ের বদ্বীপে বঙ্গবন্ধুকন্যার সৃজনের সংগ্রাম

‘আমাদের সকল ভরসার স্থল জাতির জনক আজ নেই। জনতার মুক্তির দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনাপর্বে তিনি বুকের …