বৃহস্পতিবার , মে ২৪ ২০১৮, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > ‘শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের আগে শিক্ষকদের হাতকড়া পরাতে হবে’
Mountain View

‘শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের আগে শিক্ষকদের হাতকড়া পরাতে হবে’

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা নির্যাতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মূল্যবোধের লঙ্ঘন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে সচেতন শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসবকথা বলেন শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন ওয়াদুদ প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে শিক্ষকরা বলেন, তোমাদের কোনো ভয় নেই। তোমাদের পাশে আমরা আছি। শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের আগে আমাদের হাতকড়া পরাতে হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন,’ মধ্যরাতে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া একটি বেদনাদায়ক ঘটনা৷ বাংলাদেশে নারীরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে৷ কিন্তু এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটল৷ আর সে ঘটনা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভূ-খণ্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে ৷ আমি শিক্ষকদের সকল দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে বলছি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে , তা যেন এদেশে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে৷ এটা সকলের কাছে খুবই লজ্জার৷’

এম এম আকাশ বলেন, আমরা কোন বিশেষ রঙের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য এখানে দাঁড়াইনি। আমরা সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র দায়ী। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া পুলিশ ঢুকতে পারে না।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে যারা রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছেন না। আমরা হলে হলে দেখতে পাই সেখানে সামন্ত প্রভুর কতৃত্ব কায়েম হয়েছে। কিন্তু সেই হলের প্রোভোস্ট সেই হলের হাউজ টিউটরের দায়িত্ব ছিল এই ধরণের কার্যক্রম থেকে তাদের বিরত রাখা। কিন্তু তারা দলের স্বার্থ দেখবেন নাকি ছাত্রদের স্বার্থ দেখবেন, এই দুয়ে দ্যোদুল্যমান রয়েছেন।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে আমরা শিক্ষকরা আছি। তোমাদের যে কোনো ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা আছি, পাশে থাকবো। যদি ছাত্রদের হয়রানি করা হয়, তাহলে শিক্ষকরা সমুচিত জবাব দেবেন। ছাত্রদের আটক করার আগে আমাদের আটক করতে হবে।
এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।

সেগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় সব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অজ্ঞাতনামা, ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নয়। সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভিসির বাসভবনে হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

কারণ দর্শানোর নামে ছাত্রীদের হয়রানি না করার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক,বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকা …