A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > সারাদেশ > পুত্র নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাবার মৃত্যু, অবশেষে সন্ধান মিলেছে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলের
Mountain View

পুত্র নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাবার মৃত্যু, অবশেষে সন্ধান মিলেছে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলের

এ.জেড রুমান: গত ২৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলো শ্রীবরদী পৌর শহরের খামারিয়াপাড়া মহল্লার প্রয়াত মোঃ রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী মোঃ সাইফুল ইসলাম। সবার আদরের মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে হারিয়ে রফিকুল ইসলামের পরিবারের প্রতিটি সদস্য ছিলো পাগল প্রায়। এ খবর শ্রীবরদী পৌর শহরের সকলেরই জানা।নিখোঁজ সাইফুলের সন্ধানে পরিবারের সকলের পাগলের মত দিকবিদিক ছুটাছুটি আর সন্ধান না মেলায় তাদের হাহাকার হৃদয় ছুঁয়ে যায় সকল পৌরবাসীর।
পরিবারটির মুখে হাসি ফুঁটাতে তাই স্ব স্ব উদ্যোগে পৌর শহরের শতশত ফেইসবুক ব্যাবহারকারী মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের সন্ধান চেয়ে একের পর এক পোষ্ট দেয় ফেইসবুকে।

” মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুল। সে কথা বলতে পারেনা। ঘাড় ডান সাইটে বাকা। শুধু আম্মা, আব্বা, ভাই, কাকা, মামা বলতে পারে। হারানোর সময় পরনে ছিল চেক গেঞ্জি ও ছাপা লুঙ্গি! ” – সন্ধান চেয়ে এমন লিখাসম্পন্ন নিখোঁজ সংবাদের একটি পোষ্টারও ছড়িয়ে দেওয়া হয় শেরপুর জেলার সব উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকায়। এই পোষ্টারটিও ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অন্যদিকে সাইফুলের বড়ভাই শ্রীবরদীর পরিচিত মুখ মো: আশরাফুল সাইফুলের সন্ধানে ঘুড়তে থাকে বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কোনভাবেই পাওয়া যাচ্ছিলোনা সাইফুলের সন্ধান!

দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও সাইফুলের সন্ধান না মেলায় সাইফুলের বাবা মা একপ্রকার নাওয়া খাওয়াই ছেড়ে দেয়।বড়ভাই মোঃ আশরাফুল বাবা মার মুখে হাসি ফুটাতে সাইফুলের সন্ধানে ছুটে বেড়ান এখান থেকে ওখানে। জানা যায়, মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের সাথে সবচেয়ে বেশী ও নিবিড় সখ্যতা ছিলো তার বাবা সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী মোঃ রফিকুল ইসলামের। এক কথায় বাবা ভক্ত ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুল। ভাব আদান প্রদানের জন্য তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিলো বাবাই। বাবাও কখনই বিরক্ত না হয়ে জীবন ভর আগলে রেখেছেন মানসিক প্রতিবন্ধী প্রিয় ছেলেকে।

তাই পুত্র নিখোঁজ হওয়ার শোকে বাবা রফিকুল ইসলামের ভিতরটা দিনকেদিন ক্ষত বিক্ষত হচ্ছিলো। ক্রমশ হয়ে পরছিলেন স্তব্ধ। প্রদমদিকে সন্ধান মিলবেই এমন আশায় নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও সন্ধান না মেলায় হতাশ হয়ে পড়েন বাবা রফিকুল ইসলাম।একপর্যায়ে গত ১৭ মে রাতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। আর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরতে পারেননি। মাত্র ৫৫ বছর বয়সেই জীবনাবসান ঘটে তার।

পুত্র নিখোঁজের শোকে অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী চরিত্রের অধিকারী বাবা মোঃ রফিকুল ইসলামের স্ট্রোক এবং মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে শ্রীবরদীর সর্বত্র।রফিকুল ইসলামের জানাযায় বড় ছেলে মোঃ আশরাফুলের আর্তনাদ অশ্রুসিক্ত করে তুলে সবাইকে। জানাযার নামাযের আগে শ্রীবরদীর সকল বিশিষ্ট জন প্রয়াত মোঃ রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে পরিবারটির জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়ে নিখোঁজ সাইফুলের সন্ধানে সকলের ভুমিকা প্রত্যাশা করেন।

অবশেষে আজ ১৮ মে শোকাহত পরিবারটির মাঝে একটুকরো শান্তির খোরাক নিয়ে আসে একটি ফোন কল।ঢাকা থেকে শ্রীবরদী পৌর শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন ( পি.টি) সাইফুলের বড়ভাই মোঃ আশরাফুলকে ফোন দিয়ে জানান ঢাকার কাওরান বাজারে সাইফুলের সন্ধান পাওয়া গেছে। খবরটি মূহুর্তেই ছড়িয়ে পরে শ্রীবরদীর পৌর শহরে এবং সাইফুলের সন্ধান পাওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেন পৌরবাসী।

ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন (পি.টি) এর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, সাইফুল কিভাবে ঢাকায় পৌছেছেন সে ব্যাপারে তারা কিছু জানতে পারেনি। শ্রীবরদীর খামারিয়াপাড়া মহল্লার ইদু কবিরাজের ছেলে মোঃ মুরাদ মিয়া কাওরানবাজার পেট্রো বাংলা অফিসের সামনে প্রথমে সাইফুল কে দেখতে পান।

মুরাদ নিশ্চিত হতে না পেরে নয়নকে ফোন দিলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যান এবং নিশ্চিত হন এটাই সাইফুল। সাইফুলও নয়ন কে দেখে চিনতে পারেন।সাইফুল কয়েকদিন যাবৎ একটি চা স্টলের মালিকের নিয়ন্ত্রনে ছিলো। সেখান থেকে সাইফুলকে উদ্ধার করে সাইফুলের বড় ভাই আশরাফুলের সাথে যোগাযোগ করে সাইফুলকে তার ফুফাতো ভাইয়ের মাধ্যমে শ্রীবরদী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের পরিবারের সদস্যরা সহ সাইফুলের এলাকার সবাই সাইফুলের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় উদগ্রীব হয়ে আছেন। সাইফুলের বড়ভাই মোঃ আশরাফুল তার প্রয়াত বাবা ও পরিবারের সকলের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

দেবীগঞ্জে বিষপানে মা ও শিশুর মৃত্যু

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই শিশু সন্তানসহ এক মা বিষপান করেছেন। এতে এক …