A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > মতামত > ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করুন
Mountain View

ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করুন

ফয়সাল হাবিব সানি:দেশে ঘোড়ার গাড়ির খুব একটা প্রচলন না থাকলেও `ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার নেই বললেই চলে’- এমনটি স্বীকার করা যায় না। এখনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘোড়ার গাড়িকে জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে ঘোড়াকে বেগার খাটানো হচ্ছে। অাজকাল ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে মালবোঝাই ট্রাকের বিপরীতে। অর্থাৎ, একটি-দু’টি ঘোড়া দ্বারাই ট্রাকবোঝাই তুল্য মাল-অাসবাব বহন করানো হচ্ছে যা ঘোড়ার ন্যায় অবলা প্রাণির পক্ষে বহন মারাত্নক কষ্টসাধ্য! কিন্তু এভাবেই লাঠি হাতে মেরে মেরে ঘোড়াকে চালিত করা হচ্ছে দিনকে দিন! ঘোড়ার পিঠে চেপে এভাবেই ভারি সব অাসবাব-মালপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘোড়া তো অার কথা বলতে পারে না। তাই মুখ বুজে নীরবে সয়ে এরূপ অন্যায়েরও যেন কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না ঘোড়া। উপরন্তু, ঘোড়াকে অাঘাত করে করে মোটা লাঠি দ্বারা চালনা করা হচ্ছে। বিশ্রামেরও কোনো সুযোগ নেই যেন ঘোড়ার! এভাবে পাহাড়সম বোঝা টেনে বাধ্য হয়ে মাইল মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে নিরীহ ঘোড়াকে! হায়রে, মানুষ! কোথায় তবে মনুষ্যত্ব? কিভাবে তবে তোরা অাশরাফুল মাখলুকাত? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এই অসহ্য পাহাড়সম ভারি টানতে না পেরে ঘোড়া শুয়ে পড়তে যাচ্ছে, ঘোড়ার জিহ্বা বের হয়ে পড়ছে, তবু লাঠির অাঘাতে একনাগাড়ে ঠং ঠং করে পা বাড়াতে হচ্ছে ঘোড়াকে! ঘোড়ার চোখে যেন ভেজা কান্নার ছাপ- তবু সেই কান্না দেখতে পাচ্ছে না অাজকের সমাজের পাষণ্ড, হৃদয়হীন এই মনুষ্য জাতি! মনুষ্য অাজ বিকিয়ে গেছে স্বার্থের কাছে, অর্থের কাছে এ সকল মায়া-মানবিকতার কোনো মূল্য নেই নিছক স্বার্থান্বেষী দুনিয়ায়!

অপরদিকে, অারেক দল ঘোড়ার গাড়িকে ব্যবহার করছে বিনোদনের রসদ হিসেবে। অামাদের দেশে শহরাঞ্চলে এখনও টমটম গাড়ির ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। ঘোড়ার গাড়িই অাধুনিককালে শহরকেন্দ্রিক টমটম গাড়ি হিসেবে রূপ নিয়েছে। ছেলে-মেয়েরা অানন্দ-মাস্তি করবার নিদর্শনস্বরূপ এই টমটম গাড়িতে চেপে সারা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে। অধিক অর্থের অাশায় টমটম গাড়ি মালিকও দু’তিনজনের স্থানে সাত-অাটজন করে গাড়িতে উঠাচ্ছে। ফলস্বরূপ, অধিক মানুষের চাপ সহ্য করতে হচ্ছে একটি-দুইটি ঘোড়াকে, না পেরেও যেন টগবগিয়ে ছুটে চলেছে ঘোড়া! এভাবে ঘোড়াকে ব্যবহার করে ঘোড়ার গাড়ি, টমটম থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে অাপামর বাঙালি। ইচ্ছেমতো ঘোড়ার পিঠে অনাকাঙ্খিত দুঃসহ ভার চাপিয়ে গাড়ির বিকল্পরূপে চালিত করা হচ্ছে যা অাদৌ মানবিকতাকেই কলুষিত করছে। অবলা, নিরীহ ঘোড়াকে এভাবে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে যত্রতত্র ব্যবহার করে যাচ্ছে!

ইতিহাসাশ্রয়ে জানতে পারি, ১৮৩০ সালে সর্বপ্রথম অার্মেনীয়দের হাতে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। অার্মেনিয়ার অধিবাসীদের অার্মেনিয় বলা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, ১৮৩০ সালের সময় অার্মেনিয়রা পুরান ঢাকায় বসবাস করতেন। এই পুরান ঢাকাতে তাদের জমিদার বংশ ছিলো। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশে এদেশের পুরান ঢাকায় তাদের বসতি গড়ে তোলেন। ব্যবসার তাগিদে তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দোকান দিয়েছিলেন। এই দোকানগুলোর মধ্যে সেই সময়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারে অবস্থিত `সিরকো এন্ড সন্স’- এর বেশ সুনাম ও নামদাম ছিলো। অার এই সিরকোতেই বাণিজ্যিকভাবে ১৮৫৬ সালে প্রথম ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয় বলে জানতে পারা যায়। তখনকার ঘোড়ার গাড়ি `ঠিকা গাড়ি’ নামেই প্রচলিত ছিলো। ব্যবসা-বাণিজ্যের নিমিত্তে তখন ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হতো। এমনকি যাতায়াতে দেশের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছিলো সেই সময় ঘোড়ার গাড়িই। এছাড়াও, পালকি হিসেবেও একসময় ঘোড়ার গাড়ির বেশ প্রচলন লক্ষ্য করা গেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘোড়ার পালকিতে করে বর-কনে বহনের বিষয়টিও একসময় গ্রামাঞ্চলে বেশ দেখতে পাওয়া গেছে।

যাই হোক, ঘোড়ার গাড়ি এদেশে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকলেও মাত্রাতিরিক্তভাবে ঘোড়াকে কাজে লাগানো হচ্ছে মণ কয়েক ভারি অাসবাব-মাল বহনের কাণ্ডারী হিসেবে, যা কখনোই কাম্য নয়। তাই এ বিষয়ে মাননীয় সরকারকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। ঘোড়ার গাড়ি যেন এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়েই থাকে। এভাবে অতিরিক্ত বেগার খাটানো, অতিরিক্ত মাল-অাসবাব বহন ও তথাকথিত টমটম গাড়িতে (ঘোড়ার গাড়ি) বেশি যাত্রী না তোলার বিষয়টিতে বিশেষ নজর দিতে হবে। তা না হলে অচিরেই ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করুন; ঘোড়ার গাড়ি যতোই এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকুক না কেনো।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View

Check Also

টেস্টে টাইগারদের ব্যর্থতার এই তাহলে আসল কারণ!

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ গত এক দশকে এ যেন এক প্রতিষ্ঠিত প্রবাদ- টেস্টের বিড়াল …