A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > যেভাবে এলো ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব
Mountain View

যেভাবে এলো ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। গত ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। সভাপতি হিসাবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে গোলাম রব্বানীকে নির্বাচন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলন হয় গত ১১ মে তারিখে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২ মাস ২০ দিন সময় নিয়েছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন ধরনের যাচাই বাছাই করে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের এই নেতৃত্ব নির্বাচনের পিছনে আছে এক ইতিহাস।

গত বছর ১২ জুলাই ছাত্রলীগের এক সাধারণ সভায় সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান গঠনতান্ত্রিক উপায়ে মেয়াদ শেষের প্রশ্ন তুললে এবং সাথে কিছু বিষয় নিয়ে ঐ সভায় তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সাথে উল্লেখযোগ্য আরো কিছু কেন্দ্রীয় নেতা ছিল। সেই সময় থেকে ছাত্রলীগের সম্মেলনের দাবি প্রকাশ্যে আসে। এরই ধারাবাহিকতায়, এই বছরের ২ জানুয়ারি ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সম্মেলনের দাবিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। পরে তারা দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশনায় সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালি পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানে দলীয় নেত্রীর বরাত দিয়ে স্বাধীনতার মাসে বা মার্চ মাসে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা বলেন। ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরি সভায় ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল সম্মেলনের দিন ধার্য করা হয়। এরপর বিভিন্ন সূত্রমতে জানা গিয়েছিল, ২৯ তম সম্মেলন দুই দিন না, একদিন (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর বিভিন্ন পরিক্রমার মধ্য দিয়ে, ৭ মার্চের জনসভায় ওবায়দুল কাদের সভানেত্রীর বরাত দিয়ে ৩১ মার্চ সম্মেলন আয়োজনের জন্য ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি- সাধারণ সম্পাদককে তাড়া দেন। আবার ৮ মার্চ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিবৃতি দিয়েছিলেন, “৩১মার্চ ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে না”। ৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন প্রত্যাশী কয়েকজন কর্মীকে মেরে আহত করা হয়। এরপর থেকে সম্মেলন নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্টতই বিভাজন দেখা যায়। সম্মেলন হবে, কি হবে না এমন দোদুল্যমানতার মাঝে ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে কথা তুললে মে মাসের ১ম বা ২য় সপ্তাহে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলনের দিন নির্ধারিত হয়। ১১ মে ছাত্রলীগের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা বলেন। এই ধারাবাহিকতায় ১২ মে ২য় অধিবেশনে সমঝোতা না হলে নেতৃত্ব নির্বাচনের ভার শেখ হাসিনা নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি প্রার্থীদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক আদর্শের খোঁজ নিতে শুরু করেন। বিভিন্ন সুত্রের মাধ্যমে প্রার্থীদের সব ধরনের তথ্য উপাত্ত তাঁর কাছে পৌছালে তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩২৩টি বিক্রিত ফর্মের প্রার্থীদের সাথে কথা বলার জন্য ৪ জুলাই তিনি গণভবনে ডেকে পাঠান। রুদ্ধদ্বার সে সভায় তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য আরো কিছু সময় নেওয়ার কথা বললে অনেকে মাঠে গুঞ্জন ছড়ায় নির্বাচনের আগে কমিটি হবে না। নির্বাচনের আগে কমিটি হওয়া, না হওয়া নিয়ে দোদুল্যমানতা দেখা দেয় নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে ৩১ জুলাই গণভবন থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সভাপতি – সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সভাপতি হিসাবে বিদায়ী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বিদায়ী কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে আসীন করা হয়। আওয়ামী লীগের জন্যে শোকের মাসের ঠিক আগ মুহুর্তে এই কমিটি পেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের সবাই আগস্ট মাসে দলীয় কর্মসূচি নির্ধারণ ও তা পালনে ব্যতিব্যস্ত।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে অভিন্ন প্রতিক্রিয়া। যাদের সাথে কথা বলা হয়েছে তারা সবাই এই কমিটির যাত্রাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানান। এই বিষয়ে সদ্য বিদায়ী কমিটির পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা কাজ করছে। সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই এই কমিটি এসেছে’।

সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ-সম্পাদক এমডি রনি জানান, ‘ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রথমে সম্মেলনের দাবি তোলে। তারই ধারাবাহিকতায় সবসময় সম্মেলনের দাবির পক্ষে ছিলাম। ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব পেয়ে সবার মাঝে এক ধরণের উন্মাদনা কাজ করছে। যেহেতু জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এই নেতৃত্ব এসেছে তাই তাদের প্রতি সকলের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমি মনে করি, এই নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা মেটানোর মতো করেই হয়েছে’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব মানে নতুন সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করে। ছাত্রলীগের নতুন যে নেতৃত্ব দায়িত্ব পেয়েছে তাতে রয়েছে মেধা ও পরিশ্রমের অপূর্ব সমন্বয়। দুজনেই ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্ট ধারণ করেই এই নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নতুন কলেবর যুক্ত হবে বলে বিশ্বাস করি’। – বার্তা জগত

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View

Check Also

ঢাবির সেই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর

বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি নামের এক ছাত্রীকে তুলে …