ভক্তদের অভিযোগের তীর পাপনের দিকে

বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন টালমাটাল অবস্থা। যেন শনির দশা শুরু হয়েছে। প্রথমে ধর্মঘট, এরপর সাকিবের বিজ্ঞাপন নিয়ে ঝামেলা। সবশেষে যুক্ত হল সাকিবের ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করার বিষয়টি।

২০১৭ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে তিনি সেটা নাকোচ করে দেন। ফিক্সিংকে প্রত্যাখ্যান করলেও ওই কথা গোপন করেন সাকিব। অর্থাৎ কাউকেই জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। সাকিবের ভাষায়- অতটা গুরুত্ব দেই নি।

কিন্তু জুয়াড়িদের কল ট্র্যাকিং করে ঠিকই তা খুজে বেড় করেছেন আকসু। সেই সাথে স্বীকার করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসানও।

এদিকে হঠাৎ করেই সাকিব আল হাসানের ব্যাপারে আকসুর এমন সিদ্ধান্তের কারণে বেজায় ক্ষিপ্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। তারা ক্ষিপ্ত বিসিবি সভাপতি পাপনের বিরুদ্ধে।

ক্রিকেট ভক্তদের প্রশ্ন, দুই বছর আগে যে ঘটনা ঘটেছে তার ব্যবস্থা এতদিন পর কেন? এটা কি সাকিবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য করছেন বিসিবি সভাপতি?

ঘটনাটাও একেবারেই মোক্ষম সময়ে। কিছুদিন আগেই ধর্মঘট করেছিল ক্রিকেটাররা যার নেতৃত্ব দিয়েছিল সাকিব আল হাসান নিজেই। এরপর থেকেই সাকিবের সাথে বোর্ডের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। তখনই একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশ হয়েছিল যে, বোর্ড সাকিবকেই এই আন্দোলনে নেতা হিসেবে মনে করছে এবং বোর্ড এই জন্য সাকিবকে শিক্ষা দিতে পারে। খেলোয়াড় যত বড়ই হোক বোর্ডের কাছে সে কিছুই না।

এছাড়াও কিছুদিন আগে বিসিবি সভাপতি নিজেও বলেছিলেন বড় কোন ঘটনা আসছে। সেই ঘটনা যে এতটা বড় হবে তা হয়তো জানত না ক্রিকেট ভক্তরা। কিন্তু বিসিবি সভাপতি যে জানত সেটা তো নিশ্চিত। এবার আইসিসি তাকে বলুক কিংবা যেভাবেই হোক তিনি জানতেন বিষয়টা। সেটা নিয়েও ভক্তদের মনে আছে ক্ষোভ। সবার অভিযোগ সাকিবের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার কারণেই পাপন এই ঘটনা নিজেই ঘটিয়েছে।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাকিবের কাছে দেয়া প্রস্তাব বিসিবি সভাপতি জানতেন। তিনিই সাকিবকে বলেছিলেন চেপে যেতে। কিন্তু এখন সুযোগ বুঝে তিনিই ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন সাকিবকে।

তবে ঘটনা যাই হোক, এই ঘটনার পরিণতি কি হয় সেটা দেখার জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে টাইগার ভক্তদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.