৫০০ মশা মারলে ১০০ টাকা!

অনলাইন ডেস্ক:
ডেঙ্গু বাংলাদেশে জন্য এক আতঙ্কের নাম। প্রতিনিয়ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক মানুষ। তবে আক্রান্ত হওয়ায় শেষ কথা নয় মারাও যাচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর কোনো কোনো পরিবারের সব সদস্যই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সব উপায়ই ভেস্তে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দুই মেয়র বলছেন দুই রকম কথা।

৯৩ সালে রংপুরেও মশার এমন মহামারি দেখা দিয়েছিল। সে সময় রংপুরের নব নির্বাচিত মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু এক অদ্ভুত ঘোষণা দিয়েছিলেন।তিনি ঘোষণা দেন, ৫০০ মশা জমা দিলে ১০০ টাকা দেয়া হবে। তার এই ঘোষণা সারাদেশে আলোড়ন তুলেছিল এবং কাজেও দিয়েছিল। মাত্র ১৫ দিনে মশার প্রকোপ অনেক কমে যায়।সেই সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু পরবর্তীকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ছিলেন। সম্প্রতি মশা নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় সেই ঝন্টু মডেলকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিলেন তার ছেলে রিয়াজ হিমন। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন-৯৩ সালে রংপুর এ একবার মশার প্রকোপ অনেক বেড়ে গেল। তখন আব্বা মাত্র সিটি (তখন পৌরসভা) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আব্বা তখন উদ্ভট এক ঘোষণা দিলেন ‘৫০০ মশা ১০০ টাকা!’হ্যাঁ আপনাদের মতোই সবাই অবাক হয়েছিল! বাট ইট ওয়াজ হিউজ এফেক্টিভ! পাড়ায় মহল্লায় মশা মাড়ার ধুম পরে যায়। সবাই গামলায়, বালতিতে যে যেটাতে পারে তেল মেখে ড্রেন, খাল, ডোবা যেখানে মশা বেশি সেখানে একটান দিত একবারে হাজার হাজার মশা গামলায় ধরা পড়ত! ১৫ দিনে সত্যি সত্যি মশার প্রকোপ উধাও হয়ে গিয়েছিল!

বিবিসি থেকে আমাদের বাসায় প্রতিনিধি আসলো আব্বার ইন্টারভিউ নিতে যে এই উদ্ভট ঘোষণার কারণ কি?আব্বা বলেছিলেন, দেখুন জেলখানা থেকে নির্বাচন করার পরেও মানুষ আমাকে সবগুলো সেন্টারে প্রথম করেছে! আমার কাছে তাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি! এই সরকার আমাকে এক টাকাও দেয়না! ট্যাক্স আর ট্রেড এর টাকা দিয়ে আমি বেতন দেই। আমার কাছে যে টাকা আর ম্যানপাওয়ার আছে তা দিয়ে ১৫টা ওয়ার্ড কেন ১টা ওয়ার্ডের মশাও মারা সম্ভব না!আর যাকে দিয়ে ওষুধ কেনাব সেই বেশীরভাগ মেরে দেয়! তাই সবাইকে যতক্ষণ না আমি উদ্বুদ্ধ করতে পারব মশা মারা সম্ভাব না! আমি হিসাব করে দেখেছি রংপুর পৌরসভায় ১০০ টার মত ক্লাব আছে ওদের ব্যাট বল প্রয়োজন।

যারা মশা মেরে মেরে আনছে তার বেশিরভাগই ছোট ছোট ক্লাব এর ছেলেরা আমি ওদের টাকার পরিবর্তে ব্যাট বল দিচ্ছি ওরা তাতেই খুশি। আর রংপুর পরিস্কার রাখার দায়িত্ব তো আমাদের সবার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *